এই পোস্টটি ১,১২৯ বার পড়া হয়েছে


খাগড়াছড়িতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর আশঙ্কা এখন সবার মুখে মুখে

তারিখ: ০১ জানুয়ারি, ২০১৩

খাগড়াছড়িতে এখন নির্বাচনী আমেজের হাওয়া লেগেছে। প্রতিদিন চলছে বিভিন্ন প্রা্র্থীর পক্ষে গাড়িতে করে নির্বাচনী প্রচারণা। ঘরে ঘরে প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রাথীর স্ব স্ব সমর্থকেরা। সব প্রার্থীই আশা করছেন নিজের মার্কা-ই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসবে। তবে সকল প্রার্থীকে ছাড়িয়ে ইউপিডিএফএর প্রার্থী প্রসিত বিকাশ খীসা-ই সবার চেয়ে বেশি আলোচিত একজন প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। অভিজ্ঞ মহল ধারণা করছেন, আগামী নির্বাচনে প্রসিত বিকাশ খীসার হাতি মার্কা প্রতীকের জয় হবার সম্ভাবনাই নবচেয়ে বেশি।

তবে কথা থাকে!

গত ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আমাদের এ্ই সিদ্ধান্ত নিতে বলে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কোনো ব্যাপারই না!

এখন প্রশ্ন ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মানে কি? ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মানে বুঝতে একজন মুরুব্বিার সাধারণ একটি মন্তব্য এখানে উদ্ধৃতি না দিয়ে পারা যাচ্ছে না। গুইমারার এক মুরুব্বি নির্বাচন নিয়ে আলোচনার সময় বলছিলেন, নির্বাচনের ফলাফল তো রেডি-ই আছে! হাতি জিতলেও হারবে, না জিতলেও হারবে, আর নৌকা না জিতলেও জিতে যাবে, জিতলেও জিতে যাবে! অর্থাৎ, তিনি আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করে দেবে একটি বিশেষ শক্তিশালী মহল! তিনি আশঙ্কা করছেন, ভোটটি তিনি যাকেই দেন না কেন, ফলাফল কিন্তু ঠিক করাই আছে!

সুতরাং, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মানে হলো, শক্তিশালী মহল বা প্রশাসনের বা সরকারের নির্দেশে বিশেষ একজন প্রার্থীকে ভোটে বিজয়ী করা। এবং পার্বত্য জনগণ সেই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-রে আশঙ্কাই এখন করছেন।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর লক্ষণ এখন থেকে খাগড়াছড়িতে একটু একটু দেখা যাচ্ছে! বিশেষভাবে হাতি মার্কার প্রার্থীর বিজয় যেন কেড়ে নেয়া না যায় সেজন্য নানা ধরণের তৎপরতা চলছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। জানা গেছে আজ মহালছড়ি উপজেলায় নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেছে সে এলাকার সেনাবাহিনী(সূত্র: সিএইচটিনিউজ.কম)। গতকাল পানছড়ি উপজেলায় সে এলাকার সেনাবাহিনী আটক করেছে দুইজন হাতি মার্কার প্রচারটীমের সদস্যকে(সৌত্র: সিএইচটি২৪.কম)।

এবং এমনি নানা বাধাবিঘ্নসৃষ্টিকারী তৎপরতা নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সময়ে আরো বেড়ে যাবে বলে মনে আশঙ্কা কেউ উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

এছাড়া ভোটের দিন ভোট কেন্দ্র দখল করে বা নির্দিষ্ট সরকারদলীয় বা তল্পীবাহক একজনের পক্ষে ইচ্ছেমতো জালভোট প্রদানের সুযোগ করে দিয়েও এই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কার্যকর করা হতে পারে। বা এমনও হতে পারে, ভোটের ফলাফল বাস্তব বদলিয়ে নিজস্ব প্রস্তুতকৃত একটি ফলাফল ঘোষনা করে দেয়াও হতে পারে।

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে সজাগ থাকুন

যেভাবেই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করানো হোক না কেন, সজাগ সচেতন থাকলে যেকোন ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর তৎপরতা বিনা চ্যালেঞ্জ ছাড় দেয়া ঠিক হবে না। সুতরাং, যেকোনোভাবেই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ঘটনা ঘটানো হোক না কেন, পার্বত্যবাসী এবং বিশেষ করে খাগড়াছড়িবাসী এ বিষয়ে সচেতন সজাগ থাকবে বলে আশা করা যায়।

Advertisement