এই পোস্টটি ৭২১ বার পড়া হয়েছে


হেগা এবং মিঠুন চাকমার লেখার প্রত্যুত্তরে উৎপল খীসার প্রতিক্রিয়া

  • উৎপলদা’র লেখাটি ফেসবুকে খুব কষ্ট করে লিখেছেন। আমার মনে হয়েছে এই লেখাটির বানান বিভ্রাট সংশোধন করে তা ব্লগে প্রকাশ করা প্রয়োজন। তাই যথাসম্ভব বানান বিভ্রাট সংশোধন করে আমি লেখাটি নিচে তুলে ধরেছি।

    আশাকরি পাঠকগণ মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেষ্টা করবেন। ধন্যবাদ-

    প্রত্যেক ক্রিয়ার একেকটি  সমান ও বিপরিত প্রতিক্রিয়া আছে। আমি দু’জনের বক্তব্যের যথার্থটাকে স্বীকার করেই বলছি- জনগনের সামগ্রিক অংশগ্রহন ছাড়া যেমন আন্দোলনের কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করা করা অসম্ভব, তেমনি সংগঠকরা যদি জনগনকে সংগঠিত করতে গিয়ে নিজেরা নিজেদের চিন্তা-চেতনা, কাজে কর্মে সংগঠিত, সমৃদ্ধ, পরিশিলীত হয়ে না উঠে কিংবা নিজেদের ব্যক্তিগত এবং দলীয় দুর্বলতাগুলি দূরীকরনের দিকে যথার্থ মনোযোগ না দেয়- কাজে কর্মে যদি সেগুলোর  বহিপ্রকাশ না ঘটায়, তাহলে রাজনৈতিকভাবে অসচেতন জনগন কখনই নিজেদের প্রকৃত দায়বদ্ধতা, দায়িত্ববোধ সম্পর্কে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সচেতন হবে না। কোন রাজনইতিক কাজে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহন করবে না। ফলে তাদের মধ্যেও তাল গাছটা আমার মার্কা নানান প্রবণতা (যেমন একপেশে সমালোচনা, নিজে যা চিন্তা করছি একমাত্র সেটাই সঠিক তেমনটি ভাবা, ভোগবিলাসে গা ভাসিয়ে দিয়ে থাকা, ইত্যাদি) দেখা যাবে।

    যেমনতি দেখা জায় আমাদের ধর্মীয় আচার-ব্যবস্থা, দৃস্তিভঙ্গির মধ্যে। …ধর্মীয় পুরোহিত সমাজের চিন্তা-চেতনায়, কাজে কর্মে নানান অসঙ্গতি-দুরগতি আছে বলেই জনগন দিশাহীন হয়ে ধর্মীয় আচার আচরন লালন করছে। তাই আমরা দেখি, জনগন প্রতিনিয়ত পুজা পার্বনে অংশগ্রহন করছে বটে কিন্তু বাস্তব জীবনে সে সবের আশানুরুপ প্রতিফলনওনেই। বিহার হতে বাসায় বা অফিস ফিরতে না ফিরতেই আমাদের শিক্ষিত দায়- দায়িকারা সেসব ভুলে যায়, অনেকে ঘরে পৌছতে পারে না, পথিমধ্যে কুকর্মে জড়িয়ে পড়ে। তাই অসচেতন মনে নির্বান বা স্বর্গ লাভ করতে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত দুখের অনির্বান বা নরক যন্ত্রনায় জর্জরিত থাকি।

    একইভাবে বলা যায়, এই আমরা যারা নিজেদের শিক্ষিত, সচেতন বলে মনে করি এবং যারা নিজেদের জুম্ম প্রেমিক দাবি করছি, অথচ একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে কাজে কর্মে আমাদের অবস্থান একেবারে তারই বিপরীত। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে যদি তারা উভয়ে সম অপরাধি হয়। সম অপরাধি না হয়ে যদি কম-বেশি অপরাধিও হয় তারপরও ত আমাদের সে সব কুফল ভোগ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে যত অন্যায় হচ্ছে আমরা কজনই বা সেসব দূর করার জন্যে কাজ করছি। অন্যদের কথা বাদই দিলাম…নিজেদের মধ্যে অন্যায় অপরাধ, দুর্বৃত্তায়ন, অধিকারহীনতা, জবর-দখল, কুশিক্ষা, মিথ্যা চর্চা ইত্যাদি জিইয়ে রেখে কি আদৌ মুক্তি সম্ভব? …একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, জাতীয় মুক্তির জন্যে আমাদের সকল কে লড়াই করতে হবে।

    সবার সমান দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে এবং সেসব অবশ্যই পালন করতে হবে। অবস্থান গত ভাবে সেটা সম্ভবও- যদি আমাদের মধ্যে সে চেতনা লালিত থাকে। কিন্তু জনগন ত জনগনই। জনগন যদি এতই সচেতন, শিক্ষিত, দুরদর্শি, সংগঠিত হতো তাহলে সামাজিক-রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্যে আমাদের সংগঠন বা পার্টির দরকার পড়তো  না।লেলিন, মাও, চে দের মত সংগঠক, লিডারের প্রয়োজন পড়তো না। জনগন তা নয় বলেই আমাদের প্রকৃত নেতা, নেতৃত্ব  দরকার। তাই আমাদের পার্টিগুলোকেই এইসব জঞ্জাল বা আগাছা দূর করার কাজে হাত দিতে হবে। এইসব দূর করার কাজে পার্টিগুলোকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। এর মধ্যে দিয়েই আসলে পার্টি কর্মী তো বটেই,  জনগনের চিন্তা-চেতনার মান সমৃদ্ধ হবে। লড়াই সংগ্রামে জনগনের সমৃক্ততা বৃদ্ধি পাবে। পার্টি কর্মীদের মনে রাখতে হবে- নিজে সিগারেট  খেলে অন্যরা আর বেশি খাবে। নিজে স্বচ্ছ না হলে অন্যরা আরও বেশি অস্বচ্ছ হবে। প্রকৃতি আমাদের এই শিক্ষা দেয়। তাদের সিগারেট না খেতে বললে তারা সেটা  মানবে না, উল্টো  কথা শোনাবে-প্রতিক্রিয়া দেখাবে। কারন তারা জনগনের পয়সা দিয়ে সিগারেট খায় না। ঠিক একইভাবে বলা যায়, জনগনের যদি মুরগি মাংশ দিয়ে ভাত খাবার দরকার পরে, তাহলে পার্টি কর্মীরা খাবে না কেন? তারা যদি সেটা  না খায় বা খেতে না পায় এবং স্বাস্থ্যগত ও মননগতভাবে শক্তিশালী না হয়ে দুর্বল, রোগাক্রান্ত থাকে তাহলে কি জুম্ম জনগনের অধিকার পাবার জন্যে তাদের পক্ষে লড়াই করা সম্ভব হবে? নিশ্চয়ই নয়। কাজেই সময়ের সাথে সাথে আমাদের সবার মধ্যেকার বিদ্যমান দৃস্তিভঙ্গি নিয়ত চর্চার মধ্যে দিয়ে পরিশিলীত যগোপযোগী করা দরকার।

    আমি মনে করি, আমাদের পার্টিগুলো জনসংযোগের যে কাজটি শুরু করেছে সেটা তাল গাছটি আমার মার্ক হলেও অবশ্যই ইতিবাচক। সমালোচনা করাটাও ইতিবাচক। মুল কথা হল এগুলোর মধ্যে দিয়ে আমরা কী শিক্ষা নিলাম। কিভাবে সেটা প্রয়োগ করে বাস্তবে কী ফল লাভ করলাম –সেসবের জথার্থ মুল্যায়ন করা। … আসলে এসবের মধ্যে দিয়েই সামনে এগিয়ে যাবার রাস্তা তৈরি হবে বলে বিশ্বাস করি। এগুলো অনেক আগে থেকেই করা উচিত ছিল। তখন করা হয় নি বলে এখন করবে না, কিংবা তাল গাছটা আমার বলা হচ্ছে বলে সেসব থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখা আর যাই হোক, কখনও বিচক্ষনতার পরিচায়ক নয়, যেমন ঠিক নয়- সন্তান বার বার ভুল করছে বলে কোন বাবা মার তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখা। এমনটি ঘটলে সেটা  সন্তান কিংবা বাবা মা- উভয়ের জন্যে চরম হতাশা ডেকে আনবে।

    একইভাবে হেগা চাকমার মতামতকে আমাদের অবজ্ঞা করার কোন সুযোগ দেখি না, যা মিথুন স্বীকার করেছেন। গুন গুন না করলে গান গাওয়া আমরা শিখব কিভাবে? আন্দোলন-সংগ্রামে নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারলে আমরা সেটাতে নিজেদের জড়াবো কিভাবে? বিরোধিতা করতে না শিখলে কিভাবে আমরা কুসংস্কার উৎখাত করব? পথে না নামলে কিভাবে আমরা সঠিক রাস্তা খুজে পাব?

    জুম্ম হিসেবে আমি আরও মনে করি, আমাদের পার্টিগুলোর এই কার্যক্রমের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করা উচিত। নর-নারী সকল পেশাজীবিদের সাথেও নিয়মিত মতবিনিময় করা উচিত। কাজে কর্মে সেসবের প্রতিফলন ঘটানো উচিত। পারস্পরিক ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা উচিত। এই ধরনের সুযোগ পেলে আমিও হয়তো সেটা  হাতছাড়া করবো না। আমাদের এটা মনে রাখা উচিত- এইভাবে কোন পার্টির কোন কর্মসূচিতে যাবার অর্থ এই নয় যে, সে ওই পার্টির কর্মী বা অন্ধ সমর্থক। আবার এটাও ঠিক নয় যে, কোন পার্টির কোন কর্মী  তাই মনে করছে বলে সেটাই পার্টি মত। এটা ঠিক যে আমাদের অনেকেই কম-বেশি জুম্ম জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা, মুক্তির  বৃহত্তর আন্দোলনের সমর্থক। ধন্যবাদ হেগা, ধন্যবাদ মিঠুন- লেখা এবং পড়া সুযোগ করে দেবার জন্যে।

    পুনশচঃ বানান ভুলের জন্যে দুখিত। এতা আমার দোষে নয় কী বদের দোষে হয়েছে।

Advertisement