এই পোস্টটি ৩৭৬ বার পড়া হয়েছে


প্রসঙ্গ ভেজাল ঔষধ, ঔষধ বিক্রেতাদের ধর্মঘট এবং আমার অভিমত

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বিভিন্ন ঔষধ মার্কেটে অভিযান চালায়। এ সময় ৫কোটি টাকার অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ জব্দ করে আদালত। এছাড়া ২৮টি ঔষধের দোকান সিলগালা করে দেয়া হয়। ১কোটি ২৮ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় এবং আটক করা হয় ১০৩ জনকে।(খবরের সূত্র: বিডিনিউজ২৪.কম)

এই আকস্মিক অভিযান, আটক, দোকান সিলগালা করে দেয়া, জরিমানা ইত্যাদির প্রতিবাদে কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ০৩ অক্টোবর সারাদেশে ঔষধের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষনা দেয় এবং ঔষধ ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করে দেয়। উক্ত সংগঠনটি ১৬টি দাবিও তুলে ধরে বলে জানা যায়।

এই কর্মসূচির ফলে রোগিদের ব্যাপক অসুবিধা হয়। যাদের জরুরি ঔষধের প্রয়োজন পড়ে তারা ঔষধ না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে।

সিউজ ওয়েবসাইটের সূত্র মতে আমরা জানতে পারি, ঔষধ ব্যবসায়ীদের এই ধর্মঘটের কারণে সরকার ঔষধ ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনায় যায়। এবং গ্রেপ্তাকৃত ব্যবসায়ীদের মুক্তি ও সিলগালাকৃত দোকান খুলে দেবার আশ্বাস দেয়।

এই জরুরি জনস্বার্থ সংশ্লষ্ট বিষয়টি নিয়েকিছু কথা বলা প্রয়োজন বলেই কিছু লেখার চেষ্টা করছি। কয়েকদিন আগে ঔষধ বিক্রিতে কর্মরত এক ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে জানতে পারলাম, ঢাকার জিঞ্জিরায় এখন নকল ঔষধ তৈরী করা হয়। তার কথা শোনার পর আমি হাঁ হয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকলাম! সে জানালো এসব নকল ঔষধগুলো খুবই নিন্মমানসম্পন্ন।

এছাড়া সে জানালো, সরকারকে কর ফাঁকি দিতে দেশের বাইরে থেকে ঔষধ আনা হয় অবৈধভাবে। এবং, দেশে পাওয়া যায় না; কিন্তু খুবই প্রয়োজনীয় ঔষধও অবৈধভাবে আনা হয়।

তার কথা শোনার পরে এবং ঔষধ ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট বা তাদের বিরুদ্ধে হঠাৎ অভিযান এইসব নিয়ে কিছু সংক্ষিপ্ত মন্তব্য না করে আর পারছি না!

১. একক গোষ্ঠীর হাতে ঔষধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা দরকার-

ঔষধ শিল্পের মতো একটি ব্যবসা কখনোই একক গোষ্ঠি বা সিন্ডিকেটের হাতে রাখা বা রেখে দেয়া ঠিক হয়নি। এই শিল্পে যে সরকারেরও কিছু নিয়ন্ত্রণ অন্তত থাকা দরকার তা এখন সরকার এবং সচেতন জনগণের বোঝা প্রয়োজন বলে আমি মনেকরি।

২. হঠাৎ অভিযান চালানো কি ঠিক হয়েছে?

এখানে বলা দরকার সরকারের প্রশাসনযন্ত্রের এমন অনেক উৎসাহী কর্মকর্তা আছেন যারা হঠাৎ এমন কাজ করেন, যা আপাতভাবে ভালো বলে প্রশংসাও পায়। কিন্তু এই কাজগুলো যদি প্রশাসন কর্তৃক কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনামাফিক করা হতো তাহলে তার ফল আরো ভালো হতো বলেই বিশ্বাস। আমি বলতে চাচ্ছি, প্রশাসনের একক ব্যক্তির দ্বারা স্থিরিকৃত না হয়ে বা একক ব্যক্তির স্বতপ্রণোদিত প্রশাসনিক কাজ হাতে না নিয়ে আমাদের প্রশাসনের দরকার সমন্বিতভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করা। এতে ভুল বা ঠিক কাজ হাতে নিলে প্রশাসনের জবাবদিহিতাও বাড়বে।

কিন্তু একক সিদ্ধান্তের কারণে অনেকে এই সকল অভিযানের কাজ করার কারণে অনেক সময় ভুলভ্রান্তি হলে সেই প্রশাসনিক ব্যক্তিই দোষী সাব্যস্ত হয়। যেমন উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কয়েক বছর আগে ঢাকায় এক প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি ভেজাল বিরোধী অভিযান চালান। কিন্ত এক পর্যায়ে তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন। এতে তার ভালো কাজের মূল্যায়ন সরকার করতে পারেনি। সুতরাং, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অগোছালো না হয়ে আরো সমন্বিত হওয়া দরকার বলে মনে হয়।

প্রশাসন ভেজাল ঔষধবিরোধী অভিযান চালিয়েছে তাকে আমরা অপরিকল্পিত প্রশাসনিক কর্মসূচি বলে ভাবতে চাই না। বরং, এই সময়ে যে ভেজাল বা নকল ঔষধবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে তাকে সরকারের প্রশাসনিক সমর্থন দেয়া দরকার বলে আমার মনেহয়। এই ধরণের কর্মসূচি বা অভিযান পরিচালনার আগে প্রচার প্রচারণা বা জনমত গঠনমূলক কা বা কর্মসূচি সরকারের করা দরকার ছিলো, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
এখন এই সময়ে এসে সরকার সবদিক বিবেচনা করে এই সকল কাজ হাতে নেবে বলে আমরা আশা করি।
এ ধরণের কাজে এগিয়ে গিয়ে আবার পিছিয়ে আসা মানে প্রশাসনের দুর্বলতাকেই দেখিয়ে দেয় মাত্র।
হঠাৎ এ অভিযান করা ঠিক হোক তা একক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেই হোক বা সামষ্টিক সিদ্ধান্তই হোক প্রশাসনের ভেজালবিরোধী অভিযান কার্যক্রমকে এখন পেছানো ঠিক হবে না বলে আমার ব্যক্তিগত অভিমত।

৩.অনৈতিকতার কাছে সরকার মাথানত করতে পারে না

অবৈধ ঔষধ ও ঔষধ ব্যবাসায়ী আটকের পরে সরকার যদি তা থেকে পিছু হটে তাহলে আমরা সাধারণ জনগণ কি শিক্ষা পেলাম? ঔষধ ব্যবসায়রিা কী শিক্ষা পেল? আন্দোলন করলে অনৈতিক দাবিও যদি আদায় করা যায় তবে জনতা কি শিক্ষা পাবে? সরকার এর মাধ্যমে কী বার্তা দিতে চায়?
এটা সর্বজনবোধ্য যে, নকল বা ভেজাল ঔষধ বিক্রয় বা তৈরী করা নৈতিকতার দিক থেকে এমনকি স্বাস্থ্যগত দিকে থেকেও গুরুতর অপরাধের সামিল। এখন সরকার আন্দোলনের চাপে পড়ে যদি মাথানত করে তাহলে তা যে ঠিক কাজ হবে না তা বলাই বাহুল্য।
সরকার ইতিবাচকভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে নাান পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু কোনোমতেই ভেজাল বিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন কিছু করলে কিন্তু সরকার ভিন্ন এবং খুবই নেতিবাচক বার্তাই দেবে যা দেশের জন্য শুভকর হবে না।

সংক্ষেপে আমি এসকল কিছু মন্তব্য করলাম। এ বিষয়ে ফেসবুক সামাজিক মাধ্যম সোচ্চার ভূমিকা নেবে বলে আমার বিশ্বাস।

একজন নাগরিকের এভাবেই বিভিন্ন ইস্যুতে ভূমিকা রাখা দরকার বলে আমি মনেকরি।

ধন্যবাদ

মিঠুন চাকমা

Advertisement