এই পোস্টটি ১৭৬ বার পড়া হয়েছে


লেখকদের উপর হামলা ও হত্যা বিষয়ে ফেসবুকে লিখিত ব্যক্তিগত মতসমূহ

৩১ অক্টোবর,২০১৫ ঢাকায় লেখক-প্রকাশকদের উপর হামলায় তিনজন মারাত্মকভাবে আহত হয় ও ফয়সার আরেফিন দীপন মারা যায়। এ বিষয়ে আমি ফেসবুকে যে মন্তব্য করি তা নিচে তুলে ধরলাম।

মন্তব্য-১

তারিখ: ৩১ অক্টোবর, ২০১৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের ছেলে জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সাল আরেফিন দীপন খুন হয়েছেন। তার আগে লালমাটিয়া/মোহাম্মদপুরে শুদ্ধস্বর প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী আহমেদুর রশিদ টুটুলসহ লেখক রণদীপম বসু ও কবি তারেক রহিমকে গুলি করে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তাদের আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
একইদিনে পরপর হামলার দুটো ঘটনা যার উদ্দেশ্য যারা করেছে তারা জানে। তবে এই হামলার যে উদ্দেশ্য আমরা দাঁড় করাতে পারি তা হলো, মুক্তচিন্তা, মুক্ত বিবেক ও বৌদ্ধিক চেতনার উপরইই আঘাত করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে লেখক-ব্লগারদের উপর হামলা ও তাদের হত্যার মাধ্যমে।
এই হামলা সারাদেশের সচেতন ব্যক্তির মাঝে আরো অনেক বেশি ভয়-ভীতি-শংকার সৃষ্টি করেছে কারন, এই পর্যন্ত এই হামলা-হত্যার ঘটনার আসল দোষীদের প্রশাসন/সরকার দৃশ্যতঃ আটক করতে পারেনি।
ফেসবুক সামাজিক মিডিয়া ব্লগের কল্যানে আমরা এই ঘটনা নিয়ে অনেকের অনেক বক্তব্য মতামত পাই। কারো মতে জংগী, কেউ বলে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র, সরকার বলে বিরোধীদল, বিরোধীদল বলে অন্যকথা।
কিন্তু তারপরেও জট খোলে না।
কিন্তু তবে আসলে আদতে এই হত্যার আসল উদ্দেশ্য এই মতামতের আধিক্যের কারনে যেন ঢাকা পড়ে যায়! যেন আমরা হারিয়ে ফেলি খেই! আমরা গুটিয়ে যেতে থাকি ক্রমে ক্রমে!
কিন্তু আসলে আদতেই কি এটা সমস্যার সমাধানসূত্র?
না, তা নয়। তবে?
প্রশ্ন রইল।

মন্তব্য-২

( আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এক সভায় মন্তব্য করেন-“দীপনের বাবা হত্যাকারীদের ‘মতাদর্শে’’ বিশ্বাসী”। তার এই মন্তব্য বিষয়ে যা লিখেছি)

তারিখ: ০১ নভেম্বর, ২০১৫

হানিফ সুচতুর। তিনি রাজনীতিতে অভিজ্ঞ। তিনি জানেন। তিনি জানেন, কাউকে ফাঁসি দিলে, কেউ খুন হলে তা নিয়ে ‘রাজনীতি’ করা যায়। যেমন, শেখ মুজিব খুন হবার পরে এখনো রাজনীতি চলছে।
আর হানিফ জানেন, আবুল কাশেম ফজলুল হক সেই খুন-ফাঁসির রাজনীতি’র চেয়েও আরো বেশি সমাজ-রাষ্ট্র-সমাজব্যবস্থা’র খোলনলচে বদলের জন্য এতদিন লড়াই করছেন।
আবুল কাশেম ফজলুল হক বা দীপনের বাবা’রা যেদিন রাজনৈতিকভাবে জনগনের কাছে যেতে পারবেন সেদিন হানিফের অন্ধক্রিয়ার ডগমেটিক রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে, এটা হানিফের মতো পোড়খাওয়া পেটি রাজনীতিকরা জানেন।
তাই ভয় তাদের মগজে, আর আবূল আবোল বাত তারা মাতবেন না তা বিশ্বাস না করাই নির্বুদ্ধিতা।
m.prothom-alo.com/banglad…/…/671290/দীপনের-বাবা-হত্যাকারীদের-‘মতাদর্শে’-বিশ্বাসী

মন্তব্য-৩

(হত্যা ও হামলার প্রতিবাদে চার সংগঠনের ব্যানারে যে সমাবেশ করা হয় তা শেয়ার করে নিচের মন্তব্যটি করি।)

তারিখ: ০২ নভেম্বর, ২০১৫

আহবান সবিশেষে,
দেশবাসীর কাছে যান।
দেশের কোটি জনতাকে সংগঠিত করুন।
পত্রিকায় মিডিয়ায় ছবি রিপোর্ট আসুক না আসুক, জনতার কাছে বক্তব্য নিয়ে যান।
লড়াইকে বাস্তবেই জনতার লড়াইয়ে পরিণত করুন।

Advertisement