এই পোস্টটি ১৮২ বার পড়া হয়েছে


মিয়ানমারের কাচিন ভাষার প্রথম পত্রিকা ‘জিংপো টাইমস’

মিয়ানমার বা বার্মার একটি রাজ্যের নাম কাচিন ল্যান্ড। সেই রাজ্যের প্রধান জাতিসত্তার নাম কাচিন। তবে তারা নিজেদের বলেন জিংপো। চীনে এই জাতিসত্তার লোকজন বসবাস করছেন। সেখানে তাদের পরিচয় ‘শিংপো’ হিসেবে। এছাড়া ভারতের উত্তরপূর্ব অঞ্চলের অরুনাঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গায় এই জাতিসত্তার লোকজন রয়েছে। মিয়ানমারে কাচিন বা জিংপো জাতির লোকজনের সংখ্যা প্রায় ১০/১১ লাখ। পৃথিবীতে সবমিলে কাচিন বা জিংপো বা শিংপো জাতির জনসংখ্যা ২৫ লাখের মতো।

jinghpaw-prat

জিংপো বা কাচিন ভাষার প্রথম প্রকাশিত পত্রিকার নাম Jinghpaw Prat or Jinghpaw Times। ১৯৫৮ সালে এই প্রত্রিকাটি মিয়ানমারের রাজধানী রেংগুন থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ছিলো সাপ্তাহিক পত্রিকা। পত্রিকাটি কাচিন বা জিংপো জনগণে মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা পায়। তৎকালীন সময়ে মিয়ানমার থেকে প্রকাশিত প্রধান ইংরেজি পত্রিকা ডেইলী নেশন ‘জিংপো প্রাট বা জিংপো টাইমস’ বিষয়ে মন্তব্য করে যে- ’এই পত্রিকাটির ডিজাইন, লে আউট এবং প্রকাশনা সংগঠন কাচিন জাতির জনগণকে ব্যপাকভাবে প্রভাবিত করেছে। প্রথমদিকে এই প্রত্রিকাটির প্রকাশনা সংখ্যা ছিলো ৪ হাজার। পরে তা বেড়ে দাড়ায় ৬ হাজারে। পত্রিকা বিষয়ে নেশন প্রত্রিকার মন্তব্য- ‘The paper gives straight news coverage without political bias.”

পত্রিকাটি প্রকাশের ক্ষেত্রে যিনি ভুমিকা পালন করেন তার নাম হলো Lahpai Zau Bawm। তিনি Burma School of Journalism এ পড়াশুনা করেন। তিনি মিয়ানমার থেকে সরকারীভাবে প্রচারিত কাচিন ভাষার রেডিও সার্ভিসে তার প্রথম সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু তিনি সেই কাজে সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি। পরে তিনি জিপো প্রাট বা জিঙপো টাইমস প্রত্রিকাটি প্রকাশের কাজে হাত দেন। পত্রিকাটি প্রায় ৪ বছর পর্যন্ত একনাগাড়ে প্রকাশিত হয় বলে জানা যায়। ১৯৬২ সালে নে উইন মিয়ানমার বা বার্মার ক্ষমতা দখল করেন। তিনি ১৯৬৩ সালে তার দেশে স্বাধীনভাবে প্রকাশিত সকল পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দেন।

কাচিন ভাষার ’জিংপো প্রাট’ পত্রিকাটি কাচিন জাতির জনগণের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়।কাচিন জাতির সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ-চেতনা ও সচেতনতা সৃষ্টিতে এই পত্রিকাটির ভুমিকা ছিলো। জানা যায়, কাচিন ভাষার এই প্রকাশনাটির কোনো কপি যখন কাচিন জনগণ পেতো তখন তা পেতে তাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যেতো। দোকানে সবাই মিলে এই পত্রিকাটি উচ্চস্বরে পড়তো।

পার্বত্য চট্টগ্রামে কি তেমন কোনো প্রকাশনা বের হয়ে থাকবে যা জনগণকে সামাজিক, সাংস্কৃতিকভাবে শিক্ষিত-সচেতন-সজাগ করতে সহায়তা করবে?

Advertisement