এই পোস্টটি ২১১ বার পড়া হয়েছে


টক শোতে হাতাহাতি- যাহাই কার্য তাহাই কারণ তো বটেই

একুশে টিভির একুশের রাতে টক শো’তে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে দিবাগত রাত সোমবার মানে ০৫ মে, ২০১৫। স্থানঃ কারওয়ান বাজার একুশে টিভি সম্প্রচার কেন্দ্র।হাতাহাতিতে অংশ নিয়েছেন মেজর জেনারেল(অব:) আব্দুর রশিদ (অব.) এবং অধ্যাপক ড. শহীদুজ্জামান(তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক)। হাতাহাতির ঘটনা লাইভ দেখানো হয়েছে অন্তত কিছুক্ষণের জন্য। লিংক

এ অনুষ্ঠানের প্রযোজক ছিলেন মাসুদুল হাসান রনি। সঞ্চালক ছিলেন মঞ্জুরুল আলম পান্না। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরো ছিলেন প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি টিপু সুলতান।

সম্ভবত বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের উত্থান ও সাম্প্রতিককালে বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা নিয়ে আলকায়েদার বা আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠনের দায়স্বীকার নিয়ে উক্ত টক শোতে আলোচনা চলছিলো। এক পর্যায়ে স্ট্রাটেজিক ইন্টেলিজেন্স বিষয়ে আলোচনা চলতে চলতে তারা হাতাহাতিতে জড়ান।

তাদের বাকযুদ্ধ হাতাহাতিতে পরিণত হবার ঘটনাই ইঙ্গিত দেয় বাংলাদেশে জঙ্গীগোষ্ঠীর উত্থান কিভাবে হয় সে দিকে। এরা পরষ্পরকে পরষ্পরের চাইতে নিজে অধিক ‘পারঙ্গম’ এবং ‘জ্ঞানবহনকারী’ বলে মনেকরে। ঠিক মৌলবাদী নামে অভিহিত গোঁড়ারাও নিজেদের তা-ই মনেকরে। পার্থক্য হলো মৌলবাদী নামধারী সাম্প্রদায়িকরা তার চর্চা করে চাপাতি-ফতোয়া প্রদানের মাধ্যমে, এবং তা করা হয় পরম প্রভুর নামে। আর টক শো ওয়ালা বুদ্ধিবাদীরা  তার চর্চা করে দুই বুর্জোয়া দলের নামে। তবে বুদ্ধিবাদীদের জ্ঞানপ্রাপ্তির জন্য তাদের কাছে ‘পরম প্রভু’ জাতীয় কিছু নেই। তাই অনেকসময় তারা ‘জ্ঞান’ নিয়ে বিষমবস্থার সম্মুখীন হন। ঠিক যেমনটি হাতাহাতিতে তারা এই বিষমাবস্থায় পরেছিলেন।

সুতরাং এই ঘটনা নিয়ে যারা যা-ই বলুন না কেন, এই যেমন একজন বললেন, দুইজনেই মহা অন্যায় ও অপরাধ করেছেন। এই্ সব বিষয় বাদ দিয়ে হাতাহাতি যা হয়েছে তার উপর আমরা মনোযোগ কম দিই! তারা ‘জ্ঞান’ নিয়ে ‘গেয়ানদান’ করুন!

যাহাই কার্য তাহাই কারণ তো বটেই! গভীরে তার খোঁজ নিতে হবে!

বরং বলি কি, ভালোই করেছে! মারামারি হাতাহাতি করেছে তো বেশ করেছে! এতে তাদের চেতনার প্রকাশ ঘটেছে তো!
দেশে ‘বুদ্ধিবৃত্তিধারী’ তথা ‘বুদ্ধিজীবী’ তকমাধারীদের দিনদিন যে গতিপ্রাপ্তি ঘটছে তাতে ‘বুদ্ধি’ ‘মনন’ ‘মেধা’ ‘ধীশক্তি’ সৃজনশীলতার কায়িক বস্তুগত (হাতাহাতি বা মারামারি শারীরবৃত্তীয় কর্মকান্ড এই অর্থে কায়িক ও বস্তুগত) প্রকাশ না ঘটলে বোঝা সম্ভব হতো না যে, এরা বুদ্ধিকে আদতে ‘বৃত্তি’গত বস্তুগত স্বার্থ চরিতার্থকরণের মাধ্যম হিসেবেই দেখে থাকে। এই ঘটনা বর্তমান সমাজের বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশের তথা গতিপ্রাপ্তির সার্থক রূপায়ণ তথা উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে এই প্রত্যাশা!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছে তো কী হয়েছে! আর সামরিক কর্মকর্তা হয়েছে তো কী হয়েছে!
শিক্ষক বৃত্তিটা সাধারণভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কী দশাসই বিবর্তিত রূপ পেয়েছে তা ঢাবিতে পড়ে তো বুঝেছি!
আর উর্দিধারী শস্ত্রপাণিগণ…
বলাবাহুল্য, এই ঘটনার পরে যারা সমালোচনা আলোচনায় মুখর তারা নিন্দামন্দ টকঝাল ঝালমুড়ি পর্যন্ত আওড়াবেন সন্দেহ কী! কিন্তু তা যে ঐ একই টক-ঝাল! তাতে জিহ্বা আর সেনশেসন তথা আবেগ আহ্লাদিত বা উত্তেজিত হয় বৈকি! বস্তুত তাও তো শারীরবৃত্তীয়! মননবৃত্তি, নীতিবোধ, মরালিটি, বৌদ্ধিকবোধ তাতে সাড়া না দেবে বা দেবে তার কথা থাক বরং! 

বরং মনন নীতিবোধ মরালিটি চেতনা বৌদ্ধিকতার গভীরতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার দিকে মনোযোগ দিই!

 তখন মারামারি হাতাহাতি ধ্বস্তাধ্বস্তি হলেও তাতে স্বার্থকতা নিহিত থাকবে বলেই প্রত্যাশা!

অন্য দেশের টক শো’তে আদর্শ দর্শন দৃষ্টভঙ্গিকে সমুন্নত রেখে ক্ষুদ্র স্বার্থ নয় বৃহৎ স্বার্থ নিয়ে হাতাহাতি হলেও হতে পারে এবং তা বিচিত্রও নয়। কিন্তু এত বিশাল ‘জ্ঞান’ জানা কম জানা নিয়ে হাতাহাতি বড়ো বিচিত্র বটে!

 

Advertisement