এই পোস্টটি ২৯৫ বার পড়া হয়েছে


বোগাস পার্টি বোগাস সংগ্রাম- উৎপল খীসা

একথা আর অবিদিত নয় যে, পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলো ঘোলাজলে হাবুডুবু খাচ্ছে সে এক যুগেরও অধিক সময় ধরে। রাজনৈতিক নেতারা দেখছেন না যথার্থ মুক্তির পথ, আলো। তাই তারা ক্ষমতাহীন, জনগণ ক্ষমতাহীন। পাহাড়ের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সমুদয় ক্ষমতা ভোগ, ব্যবহার করছে দুবৃত্তরা। অন্যরা আজ তাদের হাতের পুতুল মাত্র!

রাজনৈতিক নেতা যখন শক্তিশালী হন তখন তিনি চতুর্পাশের সমস্ত আধারকে বিদুরিত করেন সহযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে। আর নেতা যদি বিপরীত অবস্থানে থাকেন তো ধীরে ধীরে সমস্ত আলোকে গ্রাস করে ফেলে আধার। অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যায় সমুদয় আলো। যে অবস্থায় স্বাভাবিক জীবন হয়ে পড়ে রুদ্ধ।

একটি রাজনৈতিক দল কতটা জনকল্যাণমূখী, প্রগতিশীল- সেটা বোঝা যায় তার নেতা কর্মীদের কথাবার্তা চিন্তা চেতনা কর্মের বাহ্যিক অবয়ব দেখে।তাদের কর্মসূচী ও সেসব বাস্তবায়নের ধরণ দেখে।

আজ অবধি যা দেখছি তাতে আলোর ঝলসানি কোথায়?

আমাদের পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলোকে যদি আমরা সেসবের আলোকে দেখি তো আশাবাদী হওয়ার মতন তেমন কিছুই আজ আর চোখে পড়ে না। বরঙ এর উল্টোটাই অধিকমাত্রায় ধরা পড়ে সবখানে। সেখানেই হল যত ভয়, আশঙ্কা! যত বাধা, যত বিপত্তি!

নেতাদের দেখলে মনে হয় তারা একেকটা বুর্জোয়া প্রশাসক! একেকজন ম্যাজিস্ট্রেট, ইউএনও, ডিসি। যাদের কাছে গেলে কোন বিষয়ে প্রতিকার পাওয়া তো দুরের কথা, উল্টো হতাশ হয়ে ফিরতে হয়! এমন অভিজ্ঞতা হচ্ছে জুম্মদের।

অবাক হবার ব্যাপার এই যে, কোন কোন দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা বোগাস দিয়ে লড়াই সংগ্রামের কথা বলছেন! ধোকা দেবার লক্ষ্যে যা যা করা দরকার তার সমস্ত কিছুই করে যাচ্ছেন! তাতে সুর মেলাচ্ছেন কিঙবা ঝিমুচ্ছেন সাঙ্গপাঙ্গরা। প্রগতিশীল দাবীদার লেখক সমাজ সে দেখেও না দেখার ভান করে আজ যে মৃত ভূমিকা পালন করে চলেছে তার ফল তাদেরই ভোগ করতে হবে। তাদের কিংবা আমাদের উত্তর প্রজন্ম কোনভাবেই এসবের নেতিবাচক প্রভাব, দায় এড়াতে পারবে না। যতই প্রতিবাদ প্রতিরোধহীন দিন যাবে ততই তার বহুমূখী প্রভাব গভীর বিস্তৃত হবে।

চুক্তি বাস্তবায়নের প্রশ্নে জেএসএস অসহযোগ আন্দোলনের নামে জুম্মদের সাথে যে ভাওতাবাজি করল কিঙবা যারা সেসবের বিপরীত মেরুতে থেকে না থেকে সেই ভাওতাবাজিকে সহায়হীনের মত সবুর করে গেল বা যাচ্ছে কিঙবা নিজেদের ভালত্ব দেখাতে ফেসবুকি বিরোধিতার ফেনা তুলছে- কেউই এর নেতিবাচক ফলাফলের প্রভাব, দায় এড়াতে পারেন না, পারবো না।

সরকার শাসক শ্রেণি নিজেদের ষোলকলা স্বার্থ কায়েমের মানসে নিয়ত ভাওতাবাজি প্রতারণা করে। তারা আমাদের জুম্মদের সাথে তাই করছে। সেসব থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো আজ আন্দোলনের নামে ভাওতাবাজি করে যেভাবে নিজে বেচে থেকে বাপের নাম রক্ষার দাবী করছে তাদের পতন অনিবার্য। এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র- যদি না তারা বা তাদের অচিরেই সেই হুশ ফিরে।

এটা অতিশয় লজ্জার ব্যাপার যে, অসহযোগের আলটিমেটাম দিয়ে তারা আজ হাওয়া!

ভাঁওতাবাজি করে কি কোন রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়?

৮/৫/২০১৫

Advertisement