এই পোস্টটি ৫৪৩ বার পড়া হয়েছে


আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস বিষয়ে ব্যাখ্যা

আগামী ০৯ আগস্ট ইন্ডিজিনাস পিপলস ডে বা বাংলায় বিশ্ব আদিবাসী দিবস। সাধারণত বিশ্বের যারা জাতিগত দিক থেকে এখনো অধিকার বঞ্চিত তারাই এই দিবসটি পালন করে থাকে।

এই দিবসটির বাংলা সংজ্ঞা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। আমি এ বিষয়ে আলোকপাত করবো না।

এখানে আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) এর একটি বিবৃতি, যা ২০১০ সালে সংবাদ মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছিলো, তা এখানে টাইপ করে তুলে ধরবো মাত্র।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকার আদায়ের জন্য রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলম ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট আন্দোলন করছে। এই সংগঠন আদিবাসী দিবস বা ইন্ডিজেনাস পিপলস ডে পালন করে কিনা বা কেন পালন করে না তা নিয়ে পার্বত্য জনগণ ও সমতলের সচেতন জনগণের মাঝে নানা কৌতুহলী আলোচনা চলতে দেখা যায়।

নিচের বিবৃতিতে ইউপিডিএফ দিবসটি বিষয়ে বলেছে যে, ইউপিডিএফ আদিবাসী দিবস পালন করে না। তবে এই দিবস বর্জনের কোনো ঘোষনাও তারা দেয়নি।

এছাড়া এই দিবসটি সমাগত হলে নানাভাবে এই দিবসটি পালনের নামে যে ব্যবসা চলে এ বিষয়েও নিচের বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে। অর্থাৎ, দিবস পালনের নামেও যে ব্যবসা চলে তা এই সংগঠন মনে করে।

এছাড়া এখানে বলে রাখা প্রাসঙ্গিক হবে যে,শুধু দিবস পালন করে কোনো অধিকারকামী জাতিসত্তা বা সংগঠন বা সংস্থা অধিকার আদায় করতে পারে না।

তাছাড়া, যতদিন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আইন দেশীয়ভাবে আইন বা বিধি হিসেবে স্বীকৃত না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত উক্ত আন্তর্জাতিক আইনের ব্যবহার তার নীতিগত বা মরাল দিক থেকেই মাত্র সিদ্ধ। এবং বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক আইন(যা দেশের বিধানে আইন হিসেবে এখনো স্বীকৃতি পায়নি) মানার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা নেই সত্য। কিন্তু মরাল বা নীতিগত দিক থেকে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা সংখ্যালঘু জনগণ বা ইন্ডিজেনাস পিপলস বা আদিবাসী জনগণ যা-ই বলি না কেন তাদের অধিকার প্রদান বিষয়ে কিন্তু এই দেশের সরকার অবশ্যই এড়িয়ে যেতে পারে না।

উক্ত সকল বিষয়ের দিকে খেয়াল রেখেই ইউপিডিএফ নিচের বিবৃতি প্রদান করেছে।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস বিষয়ে যে ধোঁয়াশা বা বিতর্ক রয়েছে তা নিয়ে কিছুটা বক্তব্য হলেও এই লেখায় উঠে এসেছে বলেই আমার মনে হয়।

নিচে প্রেস বিজ্ঞপ্তি টাইপ করে দেয়া হলো-

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

তারিখ: ০৯ আগস্ট, ২০১০

আদিবাসী দিবসে ইউপিডিএফ-এর অবস্থান সম্পর্কে ব্যাখ্যা

মূল বক্তব্য: ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) এর কেন্দ্রীয় নেতা সচিব চাকমা আজ ০৯ আগস্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, কতিপয় সংবাদ মাধ্যমে ইউপিডিএফ আদিবাসী দিবস বর্জনের ডাক দিয়েছে বলে যে তথ্য পরিবেশন করেছে তা সত্য নয়।

তিনি বলেন, ইউপিডিএফ ‘আদিবাসী দিবস’ পালন না করলেও বর্জনের ঘোষনা দেয়নি। তবে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপ আদিবাস দিবস পালনের নামে বহু বছর ধরে যে ব্যবসা চালিয়ে আসছে তার প্রতিবাদে প্রচারপত্র ছেপেছে।

সচিব চাকমা সন্তু লারমার ‘আদিবাসী দিবস’ পালনকে ভন্ডামি আখ্যায়িত করে বলেন, যিনি পার্বত্য চট্ট্রগ্রাম থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে সরকারকে পরামর্শ দিতে পারেন, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের পক্ষে কথা বলার অধিকার রাখেন না।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ঢাকায় এলজিইডি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহের ভূমি অধিকার সম্পর্কিত এক সেমিনারে বক্তব্য দেয়ার সময় সংসদ উপনেতা ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দা সাজেদা চৌধরী বলেছিলেন, জ্যোতিরিন্দ্র লারমার (সন্তু লারমা) সুপারিশের ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

নিউএজ পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি-

[ On withdrawal of troops from the hills, Sajeda said the discussion to pull out military from the hill districts was cancelled because Jyotiridra Larma, who signed the peace deal with the government in 1997, so suggested. – (source: New Age, 8 August, 2010)]

ইউপিডিএফএর প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের নিরন চাকমার স্বাক্ষরে উক্ত বিবৃতি সংবাদ ও ইলেক্ট্রনিক্স মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়।

Advertisement