এই পোস্টটি ১৯০ বার পড়া হয়েছে


নির্যাতনের সমাজ মনস্তত্ত্ব

তারিখঃ ০৬ আগস্ট, ২০১৫

ইদানীঙকালে শিশু-কিশোর ও নারীর উপর নির্যাতন যেন বেড়ে গেছে, অন্তত পত্র-পত্রিকা-মিডিয়ার খবর পড়ে তা-ই মনে হয়। আমার কাছে মনে হয়েছে, দুর্বলের উপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার একটি সমাজ মনস্তত্ত্ব রয়েছে। এর শেকড় রাজনীতিতে। অন্তত বর্ত্তমান ‘শক্তিমত্তা বলমত্ততা’ প্রদর্শনের রাজনীতিতে তার শেকড় নিহিত বলেই বোধে জাগে।
দেশে দুই পুঁজিপন্থী দলসমূহ ক্ষমতা দখলের, দেশ ও দশের সম্পদ লুটপাটের যে ধারা চালু রেখেছে ও এখন তাতে যেভাবে একটিমাত্র দলীয় বৃত্তভুক্তরা স্বমহীমায় আবির্ভূত হয়ে একইসাথে বিরোধীভুক্তদের নির্বংশ নাশ করছে ও নিজেদের বাহুবলী বজরঙ্গী বুজরুকী দেখাচ্ছে, তার সুর-তাল সেধেছে বৃত্তভুক্ত সকল এপাশ ওপাশ পক্ষ।
অপরপক্ষে আম আপামর সাধারণ জনতাওতো এই ‘বীররস ধারা’ থেকে বঞ্চিত বোধ করবে তা ‘দ্বন্দ্ববাদ’ বস্তুবাদিতার স্বভাব নয়। সুতরাঙ, জনতাওবা কম কীসে!
তারাও বীর বিক্রমত্ব থেকে সরাতে পারে না!
কিন্তু হায়! আম আপামর সাধারণ জনতার তো ‘পুঁজিপাত্তা’ আইন বিধি, ক্ষমতা হাতিয়ার নেই! তারা তো নিরুপায়, তারা তো অসহায়, অক্ষম। অক্ষমের শক্তিমত্তা হোলো, বসের বকুনি ঝাকুনি হজম না হলে ঘরে এসে ‘বস’ সেজে নিজের স্ত্রী-পুত্র-কন্যার উপর দ্বিগুন অনুপাতে বকুনি-ঝাকুনি এবং কালেভদ্রে ধামাকাও চলে!
কিন্তু বুকে চেপে বসা আম আপামর জনতার ‘দুঃখভার’ নিরবে ‘ধামাকা’ খোজে, কিন্তু খেই হারিয়ে সেই ধামাকা হঠাত স্ফুলিংগ হয়ে বিকারগ্রস্ততায় জ্বলে ওঠে, এবং তাই ‘দুর্বল’এর উপরই তা বজ্রসম ঘা মারে। কিন্তু, এটাই সত্যি যে, এই জমে থাকা দুঃখভার’ ক্রোধ ক্ষোভ চরম বিকারময় হয়ে উঠতে শুরু করলে তা সাপ যেমন নিজের ল্যাজ থেকে নিজেকে গিলতে শুরু করে তেমনি এই বিকারাদি
সমাজকে আত্মবিনষ্ট বিধ্ধস্ত করবে না তার গ্যারান্টি কে দেবে?!
সুতরাঙ, সমাজের বর্ত্তমান বিকারকে নিয়ে ভাবার সময় রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনানীতির সার অংশের সারবত্তাহীনতার কথা ভাবুন। তা যদি না ভাবেন তবে আরো চরম বিকারাদির অভিজ্ঞতা লাভের জন্য মনে মনে প্রস্তুত হোন!
মনে রাখবেন ‘গোকূলে বাড়িছে সে’।

Advertisement