এই পোস্টটি ৬৩৮ বার পড়া হয়েছে


সমাজ জাতির প্রতি দায়িত্ব পালন এবং ফেসবুকে ফেক-ছদ্ম আইডি প্রসঙ্গ

আমার লেখার শিরোনাম আমি দিয়েছি-

“সমাজ জাতির জন্য দায়িত্ব পালন এবং ফেসবুকে ফেক-ছদ্ম আইডি প্রসঙ্গ”

আজ আমি যা লিখেছি তা-ই শুধু তুলে ধরছি। সময় পেলে বিস্তারিত লেখার কাজে হাত দেবো আশা রাখছি।

বলা দরকার দীপংকর ‘ফেক আইডি ব্যবহার নিয়ে’ নিজের যে মতামত প্রকাশ করেছে তারই সূত্র ধরে এই লেখার অবতারণা।
দীপংকরের লেখার মূল কথাটি যে কী তা নিয়ে অনেকের বিভিন্ন মত রয়েছে। দীপংকর ফেক আইডি নিয়ে তার ব্যক্তিগত মতামত দিয়েছে মাত্র। তার নিজস্ব মত থাকতেই পারে। তা সবার মতামত হবে বলে এমন কথা নেই! কিন্তু তার বদলে আমরা সবাই চাপিয়ে দিচ্ছি “নিজের বিশ্বাসকৃত মত”। এটা কি গণতন্ত্র চর্চা বলে!? একটি সাধারণ মতামতকেই স্বীকার করতে আমরা পারছি না! সেখানে পার্টিকে সমালোচনা করা তো বাগাড়ম্বর বলেই আমার মনে হচ্ছে!(পার্টিকে সমালোচনা বিষয়ে আমি হেগা চাঙমার লেখার সূত্র ধরে কথা বলেছি।)।

দীপংকর তার অনেক মতামতের ভিড়ে মূল কী কথা বলতে চেয়েছে তা তুলে আনা দরকার বলে মনে করছি। তা হচ্ছে, দীপংকরের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি- ‘আমার মনে হয় যারা ফেক আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্য ও মতামত প্রকাশ করে তাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা মতামত দেয়া থেকে বিরত থাকা দরকার। ”
এ বক্তব্যটিকে উদ্ধৃত করে আমি নিচের দুইটি কমেন্ট করেছি-

কমেন্ট-১

খুবই সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করি!

১. আমার এতদিনের অভিজ্ঞতায় যা দেখলাম তা হচ্ছে- আমরা আসলে একএকজন নার্সিসিস্ট ব্যতীত কিছুই নই! আমরা শুধু নিজের কথা, নিজের কাজ, নিজেকেই যেন ভালোবাসি! নিজেকে নিয়ে মশগুল থাকি আমরা!

২. দুটো উদাহরণ দিই-

ক) ফেসবুক “নিখিল” নামে এক ব্যক্তি ছদ্মনামে(অবশ্যই ফেক নয়!) লেখালেখি করেন। তিনি একটি পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে একটি পিটিশনের পক্ষে অনেক লেখালেখি করেছেন। তার কাজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তা এখন ব্যর্থতায় ‘পর্যবসিত’ হতে চলেছে! আমার ভালো লাগেনি। আমার খুবই বলতে ইচ্ছে হয়েছে এটা দেখে যে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক প্রচারের বিষয়কে আমরা কোনো খেয়ালই করিনি! আর এই পিটিশনের অভিভাবক এমন একজন হয়েছেন যিনি হলেন ‘বাস্তবে অধরা/ বাস্তবে তার টিকিটি নেই অর্থাৎ, তিনি ভার্চুয়ালি আছেন মাত্র বাস্তবে নেই। অথচ. এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের যারা বিদেশে লড়াই করেন তারা প্রচার চালাতে পারতে ধুমসে! যে বিষয়টি বা ইস্যটিকে ছদ্মানামে নয় বাস্তবে বাস্তবক্ষেত্রে এবং বাস্তবব্যক্তিকে নিয়ে প্রচারণা করার দরকার ছিলো তা প্রচারিত হচ্ছে- এক ‘ফেক’ আইডির ব্যক্তিকে নিয়ে! কাজ কিছুই হলো না! উল্টে হতাশা!

কমেন্ট-২

খ) তাইন্দঙের ঘটনা ঘটার পরে অনেকেই অনেক কিছু করেছেন। ফেসবুকে দেখলাম- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও কিছু একটা করার চেষ্টা করছে। তারা তাইন্দংবাসীর জন্য ত্রাণ তুলছে। প্রজ্ঞাতেজ চাকমার স্ট্যাটাসে তা দেখেছিলাম। তখন আমার খুব ইচ্ছে হয়েছে একটি কথা বলি! তা হচ্ছে- আমরা ‘চেতনায়’ ‘এনজিও মার্কা (পাইচিং-এর ভাষায় চেতনা এনজিওকরণ) হয়ে গেছি!

যেখানে ঢাকায় শত শত জুম্ম ছাত্র-ছাত্রীকে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ-রাগ-ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখানোর কথা, সেখানে তারা করছে ত্রাণ তোলার কাজ! দায়িত্ব যখন সমাজ গঠনের কাজে নেমে পড়ার সেখানে আমরা কাজিয়া করি আমার কথাই ঠিক বলে প্রচার করায়!

কাজ আমরা সবাই করি! দায়িত্ব পালন করি সমাজ-জাতির জন্য! কিন্তু মূল বা মৌলিক দায়িত্ব কি কেউ পালন করি! প্রশ্ন আসতে পারে মৌলিক দায়িত্ব কী!

(পরে আরো বিস্তারিত লেখার আশা রাখছি….

Advertisement