এই পোস্টটি ৪৮৬ বার পড়া হয়েছে


স্বার্থপরতা ও ভোগবাদে আচ্ছন্ন আমাদের তরুণ জুম্ম ছাত্র-যুব সমাজ

পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ জুম্ম যুব সমাজ আজ চরম স্বার্থপরতা ও ভোগবাদে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। তারা আজ পরার্থপরতা বা  নিস্বার্থপরতা কী বস্তু তা বোধকরি ভুলতে বসেছে! নিরহংকার বা অন্যের জন্য ভালোবাসা বা সমাজের জন্য তার নিজের দায়িত্ব কী রয়েছে কি না তা নিয়ে চিন্তা যেন ভুলেই গেছে। ন্যূনতম বিবেবকসম্পন্ন ব্যক্তি বা ন্যূনতমভাবে জাতিগত সচেতন বা সমাজ সচেতন এক ব্যক্তি এই উপরের বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে পারিপার্শ্বিক বাস্তবতাকে প্রতিদিন দেখে বা সম্মুখ বাস্তবতায় পড়ে।

এক ফেসবুক বন্ধু আজ(১৩ আগস্ট) একটি স্ট্যাটাস সিএইচটিবিডি গ্রুপে শেয়ার করলেন। আমার এই লেখাটি আজ ব্লগে শেয়ার করতে ইচ্ছে করছে।

তিনি তিনজন বন্ধুর “দুঃখের কথা” বলেছেন। আসলে দুঃখটা স্রেফ তাদের ব্যক্তিগত, তাতে সামষ্টিক চিন্তা নেই। এবং তাদের এই তিনজনের “দুঃখই” যেন পার্বত্য জুম্ম ছাত্র যুব সমাজের সবার দুঃখ হয়ে উঠেছে! এই  “দুঃখ” আদতেই স্বার্থ সংশ্লিষ্ট, ব্যক্তি লালসা লোভ সংক্রান্ত! এতে সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ ফুটে উঠেনা। ফুটে উঠেনা একজন ছাত্র বা যুবক হিসেবে তার কর্তব্যবোধ।

এবং এই চিন্তার ট্রেন্ডই যেন চলছে আমাদের জুম্ম ছাত্র যুব সমাজের মধ্যে।

প্রথম বন্ধুর দুঃখের কথা: মদ না থাকলে কি পিকনিক হয়!

হায়!আর ১00 টাকার জন্য আইটেম বাদ যাচ্ছে।মাছ মাংস ডিম সবজি সালাদ কুক এবং মদ না থাকলে কি পিকনিক হয়?
একজন বলে,আমি আমারটা সহ ৯00 টাকা দিয়েছি।আর দিতে পারব না।কালকে আমার আর একটা পিকনিক আছে।

দ্বিতীয় বন্ধুর দুঃখের কথা: প্রেমিকাকে না পেয়ে দেবদাস

এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাতাল অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছে।খুঁজ নিয়ে জানলাম,সে নাকি একটা মেয়েকে ভালবাসত।মেয়েটি তাকে বারবার প্রত্যাখান করার পরও সে পিছু ছাড়ে নি।আজ মেয়েটিকে একজনের মোটর সাইকেলে উঠতে দেখে ছেলেটি আত্নহত্যা করতে চেয়েছিল কিন্তু বন্ধুরা তাকে বাধা দেই।তাই শেষ পর্যন্ত সে দুঃখ ভুলার জন্য মদ খেয়েছে।

তৃতীয় বন্ধুর দুঃখের কথা: ইচ্ছাপূরণ! ভালো লাগে না সবি!

 

ছেলের ইচ্ছা পূরণের জন্য জায়গা বন্ধক রেখে লোকটি ছেলেকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিয়েছে।এক মাস পরে Android Mobile চাইল তা দেওয়া হল।তিন মাস পরে Computer চাইল তাও দেয়া হল এবং ছয়মাস পরে Laptop চাইলে লোকটি বাধ্য হয়ে জায়গাটি বিক্রয় করে তা কিনে দিল।আজ সেই ছেলেটির সাথে দেখা হল আমার এবং আমাকে বলেছিল,আর Laptop ভাল লাগে না।হায়!একটা ট্যাব থাকত।
আজ আর ব্যক্তিগত মন্তব্য করবো না। ওই ফেসবুক বন্ধু এই তিন উদাহরণ দেবার পরে কী লিখেছেন তা-ই নিচে তুলে ধরছি-
অথচ তাইংদং এ যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছি,সুকুমনির ছেলে যখন বিনা চিকিত্‍সায় মারা গেল,নিঃস্ব হয়ে যারা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে,তাদের দুঃখের কথা এই র্নিলজ্জরা কখনো ভাবে নি।এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে FB CHTBD তে সকলের অংশগ্রহনের জন্য আহবান জানানো হয়েছে,দুই একজন ছাড়া কেউই প্রতিবাদ মিছিলে আসেনি।ত্রাণ সংগ্রহের জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে তাতে ও একই।
হায় রে স্বার্থপর ও ভোগবাদী সমাজ!

ধন্যবাদ জানাচ্ছি লেখককে।

আশা করছি আমাদের জুম্ম ছাত্র যুব ভোগবাদে আচ্ছন্ন সমাজ তাদের সমাজ ও জাতিসত্তার দুঃখ কষ্ট নিয়েও সজাগ হবে!

Advertisement