এই পোস্টটি ২,৬২৯ বার পড়া হয়েছে


পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতীয় গৌরবময় ইতিহাসের পিঠে ছুরি বসালো চবি শিক্ষক আনন্দ বিকাশ চাকমা

বেশি লিখবোনা। খুব সংক্ষেপে লিখি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগর শিক্ষক প্রভাষক মি. আনন্দ বিকাশ চাকমার একটি লেখা বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সোসাইটির পত্রিকার জুন ২০১৩ সালে প্রকাশিত একত্রিশ খন্ড গ্রীস্ম সংখ্যার ৭৩ পৃ্ষ্ঠা থেকে ৯৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত লেখাটি বিস্তৃত। লেখাটির শিরোনাম “ভারত বিভাগ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম”।

লেখার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে লেখাটির সারসংক্ষেপ অংশ থেকে একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরছি-

“আলোচ্য প্রবন্ধে ১৯৪৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পূর্ব বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশের) সঙ্গে রাখার অনুকূল ঐতিহাসিক, আর্থসামাজিক ও সাম্প্রদায়িক প্রেক্ষাপট এবং পাহাড়ী নেতৃবৃন্দের অমুসলিম পরিচিতিকে ইস্যু করে ভারত ইউনিয়নে থাকার পক্ষে প্রদত্ত যুক্তিসমূহের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।”

লেখায় লেখক কী বলতে চেয়েছে তা বোঝার জন্য আমি লেখাটির শেষাংশ থেকে দুটো উদ্ধৃতি দিচ্ছি-

উদ্ধৃতি – ১(ক) : পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতে রাখার লক্ষ্যে জন সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্নেহকুমার চাকমার নেতৃত্বে একদল চাকমা(ঘনশ্যাম দেওয়ান, ললিত মোহন চাকমা, স্রোতরঞ্জন খীসা, রবীন্দ্রলাল চাকমা ও অন্যান্য) কংগ্রেস-এর (সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল) আশ্বাসে রাঙামাটির ডিসি কার্যালয়ের সামনে ভারতের পতাকা উড়িয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাকিস্তানে অন্তুর্ভূক্তি প্রতিহত করতে সশস্ত্র প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিল ১৯৪৭ এর চৌদ্দ মতান্তরে পনেরই আগস্ট।

স্নেহকুমার চাকমার এই কাজের পরে পাকিস্তানের বেলুচ রেজিমেন্ট ভারতের পতাকা নামিয়ে পাকিস্তানের পতাকা উড়িয়ে দেয়। জন সমিতির সভাপতি কামিনী মোহন দেওয়ান স্নেহকুমার চাকমার এই কাজকে মানতে না পেরে সমিতির পদ থেকে ইস্তফা দেন। কিন্তু স্নেহকুমার চাকমা নিজ বিশ্বাসে অটল থাকেন। এ নিয়ে আনন্দ বিকাশ চাকমা কী বলতে চেয়েছে তা উদ্ধৃতি দিচ্ছি-

উদ্ধৃতি- ২(খ) : কিন্তু স্নেহকুমার চাকমা দমবার পাত্র ছিলেন না। যুক্তি ও বাস্তবতা থেকে উপজাতীয় গোঁয়ার প্রকৃতি তাকে অন্ধ করে দিয়েছিল। পাকিস্তান যখন বেলুচ রেজিমেন্টের সেনা দিয়ে বিদ্রোহ দমনের ব্যবস্থা নেয় তখন স্নেহকুমার চাকমা তার সহযোগীদের নিয়ে (হৃদয় রঞ্জন চাকমা, ঘনশ্যাম দেওয়ান, দারোগা ইন্দ্রমনি চাকমা, স্রোত রঞ্জন খীসা, মোহন লাল চাকমা, সুনীতি জীবন চাকমা প্রমুখ) ভারতের ত্রিপুরায় পালিয়ে যান।

এই ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে আনন্দ বিকাশ চাকমা অন্য কী সিদ্ধান্তে আসতে চেষ্টা করেছে তা বুঝতে নিচের উদ্ধৃতি দিচ্ছি-

উদ্ধৃতি- ২:

তখন না রাজা, না নেতা কেউ মুসলিম লীগ বা জিন্নাহর কাছে আসল পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করেননি। তারা যদি বলতেন যে, স্নেহকুমার চাকমা যা করেছেন তা সমগ্র চাকমা জাতি তথা পার্বত্যবাসীর মত নয়, আপামর পার্বত্যবাসীর পাকিস্তানে অন্তর্ভূক্ত হতে আপত্তি নেই এবং তারা সবাই পাকিস্তানকে মেনে নিয়েছে, তখন হয়ত চাকমাদের প্রতি পাকিস্তানের মনোভাব সহানুভূতিশীল হতে পারত।

কিন্তু যা হয়েছিল তা হল এই যে, দু’একজন অতি উৎসাহী, অপরিণামদর্শী রাজনীতিকের অদূরদর্শীতার কারণে পুরো জাতিকে পাকিস্তাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত থাকতে হয়েছে।

লেখার প্রতিক্রিয়ায় কী বলবো!

খুব সংক্ষেপে বলি- মেরুদন্ডহীন এক শিক্ষকের মেরু না বোঝা(চাকমা ভাষায় অ-ভ না বুচ্চে) বোঝা, লাজ লজ্বা বা জাতীয় ঐতিহাসিক গৌরব-গর্বের তাৎপর্য না বোঝা, বা ফালতু এক তথাকথিত ‘নিবন্ধ বা প্রবন্ধ'(আমার লেখককেও ফালতু বলতে ইচ্ছে হচ্ছে)।

ঘোষনা এবং আরো কিছু- আমার এই মন্তব্যের বিপরীতে কারোর কোনো বিতর্ক করার মতো বা আনন্দ বিকাশের মতামতের পক্ষে বলার মতো কারোর কিছু থাকলে তা লিখে জানাতে অনুরোধ করছি। তারপরেই  আমি পরের বক্তব্য দিতে আরো লেখার চেষ্টা করবো।

 

Advertisement