এই পোস্টটি ৪৫২ বার পড়া হয়েছে


পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ইতিহাসের পাতা উল্টালে…

পিসিপির ইতিহাসের পাতা উল্টালে…

 

( পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ বা সংক্ষেপে পিসিপি। সংগঠনের মূল নাম বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। ১৯৮৯ সালের ০৪ মে রাঙামাটির লুঙুদুতে ভয়াবহ গণহত্যা সংঘটিত হয়। সেই গণহত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন পাহাড়ি ছাত্রছাত্রীবৃন্দ। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে যে সকল পাহাড়ি ছাত্রছাত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম-রাজশাহী-কুমিল্লায় পড়তন তারাই এই উদ্যোগ নেন। তখন সবেমাত্র বাংলাদেশে সামরিক স্বৈরাচারী শাসনকে গণসংগ্রামের মাধ্যমে হটানো সম্ভব হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে চলছে প্রতিরোধ সংগ্রাম বা অন্যদের ভাষায় ইন্সারিজেন্সি। সারা পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা স্টীমরোলার চলছে। উর্দিপরা বাহিনীর হাতে জিম্মি জনগণ। সেই আতঙ্কিত দশা থেকে মুক্তি পেতে লড়াকু ছাত্রসমাজ গঠন করেছিল পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। ২০ মে ১৯৮৯ সালে ঢাকায় মৌন মিছিলের মাধ্যমে লুঙুদু হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ লড়াইয়ের ঐতিহাসিক পর্বে প্রবেশ করেছিল। আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম ও লড়াই সংগ্রামের সাথে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এক অবিচ্ছেদ্য নাম! যারা সেই সংগঠনে কাজ করেছেন তারা সংগঠনে থাকাকালীন নিজের ভূমিকার জন্য গর্ববোধ করেন। এবং এখনো দিশা খোজেন সেই আদ্যগতিস্রোতের ধাবমান পিসিপির উত্তাল দিনগুলোর কাছ থেকে)

০১. পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ১০ কাউন্সিল বা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় খাগড়াছড়ির পেরাছড়ায়। ২১-২২ মে, ২০০০ সালে তা অনুষ্ঠিত হয়। এই কাউন্সিল বা সম্মেলনের শ্লোগান ছিলো- সকল গণবিরোধী অপশক্তিকে প্রতিহত করে র্পূর্ণস্বায়ত্তশাসন আদায়ের সংগ্রামে সামিল হোন।

এই সম্মেলনে ২৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন রূপক চাকমা, সাধারণ সম্পাদক হন চম্পানন চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন ডমিনিক ত্রিপুরা।

০২. ১১তম সম্মেলন বা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায় ২০০১ সালে। ২১ ও ২২ মে দুইদিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠন করা হয় ২৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি। সভাপতি হন মিল্টন চাকমা। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন প্রমেশ্বর চাকমা।

০৩. ২০০২ সালের ২১ মে খাগড়াছড়ির নারানহিয়ার পাইওনিয়ার ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় ১২ তম সম্মেলন। এই কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হন প্রমেশ্বর চাকমা। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শপথ নেন মিঠুন চাকমা। স্বর্ণজ্যোতি চাকমা সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিলো ১৯ জন।

০৪. চট্টগ্রামে ১৩ তম সম্মেলনের আয়োজন করা হয় ২০০৩ সালে। ২০মে থেকে ২৩ মে তিনদিন ধরে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাধ্যমে ১৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। সভাপতি মিঠুন চাকমা। সাধারণ সম্পাদক অলকেশ চাকমা। সাংগঠনিক সম্পাদক দীপংকর ত্রিপুরা।

০৫. ২০০৪ সালের ২৪-২৬ নভেম্বর ১৪তম কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করা হয় ১৯ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি। এই সম্মেলন চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি করা হয় রুপন চাকমাকে। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন দীপংকর ত্রিপুরাকে। সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান রিকো চাকমা।

০৬. ‘সকল জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি চাই- ‘উপজাতি’ বানানোর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠন’ এই শ্লোগানের উপর ভিত্তি করে ঢাকায় আয়েজন করা হয় ১৫তম সম্মেলন। ২০০৬ সালের ২৭ থেকে ২৯ জুলাই এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গঠিত ১৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান দীর্পংকর ত্রিপুরা, সাধারণ সম্পাদক সুনির্মল চাকমা জিমপু, সাংগঠনিক সম্পাদক ভবতোষ চাকমা, অর্থ সম্পাদক ক্যহ্লাচিং মারমা, দপ্তর সম্পাদক অংগ্য মারমা।

Advertisement