এই পোস্টটি ৭০৮ বার পড়া হয়েছে


অডঙ চাকমার মন্তব্য পড়ে সংবিধানে বাঙালি বানানো নিয়ে আওয়ামী জু্ম্ম এক নেতার যুক্তির কথা মনে পড়লো!

(ক)
চীনের প্রাচীন একটি প্রবাদে বলা হয়েছে- এমনকি বুদ্ধেরও মেজাজ থাকতে পারে(Even Buddha can have a temper)।

আপ্ত এই প্রবাদটির উদ্ধৃতি দিয়ে বলছি, একটি জাতি বা জাতিসত্তার মান মর্যাদা বা গৌরবময় ঐতিহ্য ইতিহাসকে ধুলায় লুটিয়ে যাবার সময়ও যদি কারোর গা রি রি না করে যদি তার মেজাজ চরমে না ওঠে তবে সে কাপুরুষ অচেতন বই কিছু নয়!

আফসোস, এখন জাতি বা জাতিসত্তার মান মর্যাদা বলতে কী বুঝায় তাও বোধে ঠেকে না অনেকের!

(খ)
পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি সময়ের ইতিহাস নিয়ে আনন্দ বিকাশ চাকমার একটি লেখা নিয়ে আমি ব্লগে একটি লেখা লিখি। শিরোনাম- “পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতীয় গৌরবময় ইতিহাসের পিঠে ছুরি বসালো চবি শিক্ষক আনন্দ বিকাশ চাকমা”

লেখাটিতে আনন্দ বিকাশ চাকমা যে সিদ্ধান্ত টানতে চেষ্টা করেছে সেই সিদ্ধান্তকে ইঙ্গিত করে আমি লিখেছিলাম- 

#”খুব সংক্ষেপে বলি- মেরুদন্ডহীন এক শিক্ষকের মেরু না বোঝা(চাকমা ভাষায় অ-ভ না বুচ্চে) বোঝা, লাজ লজ্বা বা জাতীয় ঐতিহাসিক গৌরব-গর্বের তাৎপর্য না বোঝা, বা ফালতু এক তথাকথিত ‘নিবন্ধ বা প্রবন্ধ’(আমার লেখককেও ফালতু বলতে ইচ্ছে হচ্ছে)।”

এই মন্তব্য প্রকাশের পরে অডঙ চাকমা যে মন্তব্য করেছেন তা তুলে ধরছি-

## ” মিঠুনবাবুর প্রতি সম্মান রেখে বলছি, আনন্দ বাবুকে যেভাবে ফালতু বলছেন সেটাকে মেনে নিতে পারছি না। আনন্দবাবুর বিশ্লেষণ আপনার পছন্দ না হতে পারে। তার বিপরীতে আপনার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দিতে পারেন, যুক্তি খন্ডন করতে পারেন। কিন্তু তাই বলে তাকে বা তার লেখাকে “ফালতু” বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা ‘ভ-বুচ্চে” মিঠুনকে মানায় না। “ভু-বুচ্চে’ মানুষের ভাষা যদি এরকম হয়, তাহলে ”অ-ভ ন বুচ্চে” মানুষের ভাষা কী রকম হবে! আনন্দবাবুর কথা বলার বা লেখার অধিকারকে ১০০% সমর্থন করি, কিন্তু তাই বলে তার সব মতের সাথে একমত হতে হবে তেমন কোন কথা নেই। দ্বিমত থাকা চাই। দ্বিমত থাকার মধ্যেই বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার পথ উন্মুক্ত হয়।”

এই বক্তব্যের পরপরই মি. প্রজ্ঞাতেজ চাকমার মতামত-

###” Odong Chakma-র সাথে সম্পূর্ন একমত। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আনন্দ বিকাশ চাকমার মতের সাথে মিলতেই হবে অথবা তার দেয়া তথ্য অথবা লেখা মেনে নিতে যে হবে এর বাধ্যবাদকতা নেই। ফেসবুকে দেখা যায় কিছু নিম্ন শ্রেনীর রাজনৈতিক কর্মী ফেইক আইডি থেকে প্রতিপক্ষের নেতাদের কিভাবে অশ্রবনীয় গালি-গালাজ করে। সেখানে মিথুন দা-র মতো বিজ্ঞ এবং পরিশীলিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে আমরা আরো একটু সংযত ভাষা আশা করি কারন আমরা অবশ্যই মিথুন দা-কে ঐসব ফেইক আইডিধারীদের মতো দেখতে চাইনা।”

আমি এই দুই লেখা পড়ে একটি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করি। তা হচ্ছে-

#### ” ডিয়ার অডঙ এবং ডিয়ার প্রজ্ঞাতেজ, হাসবো না কাঁদবো নাকি চুপ থাকবো নাকি গালি দেবো বুঝতে পারছি না! প্রথমে বলি, আমি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভদ্রতা দেখাই না। এরপর বলি, একজন একাডেমিক লেখকের লেখার গুরুত্ব, তাৎপর্য যদি আমাকে বোঝাতে হয় “শিক্ষিত’ এবং “সচেতন’ ব্যক্তিকে তবে আমি লা জবাব! তাহলে আর কথা বাড়াতে ইচ্ছে আমার মরে যাওয়া দরকার। শুধু এটুকুই বলবো।”

(গ)
মনে পড়ছে, ২০১১ সালের ৩০ জুন মহাজোট সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন করে। এতে  বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল জনগণকে ‘জাতি হিসেবে বাঙালি’ বলা হয়। এই ঘোষনার তীব্র প্রতিবাদ করেছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণসহ সকল জাতিসত্তার জনগণ।

এই ঘোষনার পরে পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম আওয়ামীরাও কিঞ্চিত মৃদু সুরে এই ঘোষনার প্রতিবাদ জানায়। এসময় এক আওয়ামী জুম্ম/নৃগোষ্ঠী নেতার মন্তব্য স্মরণ করছি।
তার কথা হচ্ছে-

সংবিধানে বাঙালি লিখলো বলে তো আমরা বাঙালি হলাম না! আমরা তো চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা যে যা আছি তা-ই রয়েছি! সরকারকে লিখতে হয় বলে লিখেছে আর কি!

এই হচ্ছে এক আওয়ামী জুম্ম/নৃগোষ্ঠী নেতার যুক্তি! যুক্তি কিন্তু অকাট্য! মানে খন্ড অযোগ্য! ঠিকই তো সরকার লিখেছে বলে কি আমরা বাঙালি হলাম নাকি?!

উপরে ডিয়ার মি. অডঙ এবং প্রজ্ঞাতেজের লেখা পড়ে আমার আওয়ামী এই (জুম্ম/নৃগোষ্ঠী) নেতার যুক্তির কথা মনে পড়েছে। কেন মনে পড়লো বুঝতে পারছি না!

Advertisement