এই পোস্টটি ১১৩ বার পড়া হয়েছে


‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথন’ বইয়ে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের পর্যালোচনা

১৯৭১ সালের নয় মাসব্যাপী যে সংগ্রাম তার প্রসংগ এই দেশের ইতিহাসের জন্য দিকনির্দেশক ও পথপ্রদর্শক একটি চেতনা এবং প্রাণবিন্দু। এই নয় মাসের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা নিশ্চিতভাবেই আগামী দিনগেুলোতে কমতে থাকবে না বরং বাড়তেই থাকবে।  এবং যতই দিন যাবে ততই ইতিহাসের এই ক্ষণগুলোর পর্যালোচনা করেই আগামীর ইতিহাস রচনাকারীদের পদক্ষেপ নিতে হবে। সুতরাং এই ইতিহাসের আলোচনা ও পর্যালোচনা অনিবার্যভাবেই ভবিষ্যতে প্রাসংগিক হয়ে উঠবে ক্রমে ক্রমে আরো আরো বেশি করে।

ব্যক্তিগতভাবে এই ইতিহাসকে চেনার চেষ্টা করতে আমার খুবই ভাল লাগে।  স্কুল জীবনে থাকার সময় কোত্থেকে যেন আমি পেয়েছিলাম এম আর আখতার মুকুলের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে বই। তারপর পড়েছিলাম শহীদ জননী জাহানারা ইমামের বই।।নেড়েচেড়ে দেখেছিলাম রফিকুল  ইসলামের বই।  পড়েছিলাম সম্ভবত মঈনুল আহসান সাবের বা অন্য কোনো লেখকের একাত্তর নিয়ে ছোট গল্প বা গল্প বা উপন্যাস, যাতে দেখা গেল, সেই রাজাকার স্বাধীনতার পরে আবার গ্রামের মোড়ল হল এবং সেই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা একজন সাধারণ ব্যক্তি হয়ে গেল মোড়লের ‘লাঠিয়াল’, সেই লাঠিয়াল দিয়ে ‘রাজাকার’ মোড়ল গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধা নেতৃত্বকে শাস্তি দিল এবং থাকলো না প্রতিকার বা প্রতিরোধের কোন প্রচেষ্টা।  এক কথায় ইতিহাসের ট্রাজেডির সফল বিবরণ যেন ছিল সেই গল্প বা উপন্যাস। তবে এখন অনেক বছর পরে সেই গল্প বা উপন্যাসের নাম বা লেখকের নামই ভুলে গেছি!

তারপর কলেজ এবং ভার্সিটি জীবনে এ নিয়ে তেমন একটা বই পড়া হয়নি। হয়তো বা এমন কোন ভাল বই হাতের কাছে পাইনি যা দিয়ে প্রাণ জুড়াবে। যা দিয়ে ইতিহাসকে সোনার খনি বলে মনে হবে। যা পথ দেখাবে নতুন কিছু রচনা করার জন্য।  এবং হয়তো বা এ নিয়ে যে বিবদমান সাংঘর্ষিক ইতিহাস রচনা করতে বসেছিলেন দুই পরষ্পর বিরোধী দলসমূহের লেখিয়েগণ, তাতে কোনো বই-ই আসলে পড়ার মত মনে হতো না। কেন না তাতে না থাকতো ‘ফ্যাক্ট’, না থাকতো ‘ইতিহাস’, বরং যা থাকতো তা হল ইতিহাসের ব্যাপক অনৈতিহাসিকী করণ।

তারপর অনেক দিন গেল, জল বা পানি গড়িয়ে গেল অনেক।  সময়ের পালা বদলে নতুন আলোয় উঠে আসল ১৯৭১ সাল ও সেই সময়ের নয়মাস।

এবং আজ আবার নতুন করে যখন একাত্তর নিয়ে আলোচনা হতে লাগল এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে লড়াইকারী অনেকেই লিখতে লাগলেন অনেক অনেক ভাষ্য ও বিবরণ তখন আবার নতুন করে জানতে বুঝতে এবং উপলব্ধি করতে এবং শিক্ষাগ্রহণ করার সময় ও প্রেক্ষাপট বা চেতনার পাটাতন সৃষ্টি হল। ইতিহাস ফিরে আসল বর্তমানে নতুন করে ভবিষ্যতকে দেখার প্রত্যয় নিয়ে।

ইতিহাসকে নিয়ে সজাগ থাকার বোধ থেকে  তাই এই চেষ্টা, বই পড়া নতুন করে ১৯৭১ সালকে নিয়ে। এবং সামাজিক গণমাধ্যম ও ব্লগের অবাধ ব্যবহারযোগ্যতার কারণে বই পড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বইয়ের অংশবিশেষ নিয়ে বা বইয়ের উপলব্ধি নিয়ে হাজির হবার এই উদ্যোগ নিতেই হল।

গত কয়েকদিন ধরে বইটি পড়ছিলাম। বইটির নাম ‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথন।’ স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ  নেয়া তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তির কথোপকথন এখানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তারা হলেন মঈদুল হাসান(প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী), এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার(স্বাধীনতা যুদ্ধকালে গঠিত মুক্তিফৌজের উপপ্রধান বা  উপসেনাপতি), এস আর মীর্জা(স্বাধীনতা যুদ্ধকালে গঠিত যুব শিবিরের মহাপরিচালক) । তারা তিনজনেই এই দেশের সচেতন সজাগ সকলের কাছে নিজ নামেই পরিচিত।তারা যে আলোচনা করেছেন তার নানা অংশ আমি আমার লেখার উদ্বৃতি দিয়ে এই লেখাটি সাজানোর চেষ্টা করব। নিজের মতামত দেয়ার মত প্রেক্ষাপট এতে থাকবে না। তবে তাদের প্রাজ্ঞ মতামত ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ মতামত থেকে নিশ্চয়ই আমরা ১৯৭১ সালের ইতিহাসকে সাদা চোখে জ্বাজ্জ্বল্যমানভাবে দেখতে পাবো এই আশা করতে পারি।

শেখ মুজিবের ৭ মার্চ ভাষণ বিষয়ে 

মঈদুল হাসান এ বিষয়ে বলছেন-

”কিন্তু যে পটভূমিতে, যে বাস্তববোধ থেকে এবং যেভাবে এই বক্তৃতা দেওয়া হয়েছিল, তার যথার্থতা ভাবাবেগবর্জিতভাবে এ দেশে কমই আলোচিত হয়েছে। এটা তার অনুসারীরাও করেননি, বিরুদ্ধবাদীরাও না। (পৃষ্ঠা নং- ১৬)

তিনি  এ বিষয়ে আরো বলছেন, শেখ মুজিব জানতেন ‘..  দেশের অনেক মানুষ স্বাধীনতার ঘোষণা শোনার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে জনসভায় এসেছেন। ‍ কিন্তু পরিস্থিতি তখন সেই ঘোষণার অনুকূলে ছিল না। …। এই নাজুক অবস্থায় মানুষকে সংগ্রামমুখী করে রাখার উদ্দেশ্যে এবারের সংগ্রামের চিত্র উদ্দীপ্তভাবেই তিনি তুলে ধরেন।’(পৃষ্ঠা নং- ১৬)

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের ধরণ

মঈদুল হাসান বলছেন-

”আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একটা বিষয় আমি দেখে এসেছি, যৌথ নেতৃত্ব বলে কার্যকর কিছু এদের ছিল না। সাংগঠনিক কাজেকর্মে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বলে কোন কিছুতে তারা বিশ্বাস করেন না। যিনি নেতা, তিনিই সমস্ত ক্ষমতার এবং সকল মূল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী। অন্য যারা নেতা থাকেন প্রধান নেতা তাঁদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ভিত্তিতে কাজ করেন। এর সুবিধা অসুবিধা দুই-ই থাকে। অসুবিধা হলো, যখন প্রধান নেতা উপস্থিত থাকেন না, তখন অন্য নেতারা একে অন্যের সমকক্ষ মনে করেন এবং এর ফলে ক্ষমতার লড়ােই শুরু হয়। “(পৃষ্ঠা নং- ১৮)

মঈদুল হাসান ’৭১ এর আওয়ামী নেতৃত্ব নিয়ে আরো বলছেন- “.. আমি দেখলাম, আওয়ামী লীগের ভেতরে আরও অনেক উপদল আছে। যারা তাদের উপদলীয় স্বার্থ নিয়ে সারাক্ষণ কাজকর্ম করে চলেছে। তাদের প্রায় প্রত্যেক নেতারই আলাদা দপ্তর রয়েছে। তাদের টাকা পয়সাও বিস্তর আছে। সর্বোপরি প্রত্যেকেই আলাদাভাবে মনে করেন যে তিনিই একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি, যাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত ছিল।” (পৃষ্ঠা নং- ১২৫)

আমেরিকার দলিল প্রকাশিত হলে জানা যাবে আরো অনেক কিছু

এ বিষয়ে মঈদুল হাসান বলছেন-

”বস্তুত ১০ মার্চের পর থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ দিনের অধিকাংশ দলিলই এ পর্যন্ত প্রকাশিত না হওয়ায় ওই দুঃসময়ে আমেরিকার ভূমিকা কী ছিল, কীভাবে ও কাদের তারা প্রভাবিত করেছিল, সে ইতিহাস এখনো অজ্ঞাত”(পৃষ্ঠা নং- ১৮)

৭০ দশকের প্রথম দশক ছিল দুই শক্তিপক্ষের শীতল যুদ্ধের কাল বা পুঁচিবাদী রাষ্ট্র ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দ্বন্দ্বের কাল।  সেই সময়ে আমেরিকার ভুমিকা সকল দেশেই ‍দৃশ্যমান অদৃশ্যমানভাবে প্রভাবিত করত নানাভাবে খুবই ব্যাপকভাবে। অথচ সেই সময়ে আমেরিকার প্রভাব বিস্তারকারী কী ভূমিকা ওই ১৮ দিনে ছিল তা এখনো অপ্রকাশিতই রয়ে গেছে আমেরিকার এই সময়কার দলিলগুলো এখনো ‘কনফিডেনশিয়াল’ বা সিক্রেট থাকার কারণে।  এবং যখনই এই সকল দলিল প্রকাশিত হবে তখন হয়তো ১৯৭১ সালের প্রথমদিকের অনেককিছুেই আবার নতুনভাবে উন্মোচিত হতেও পারে।

পাকিস্তানী সেনাবাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছিল যুদ্ধের, কিন্তু এদিকে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাল্টা প্রস্তুতি ছিল না

এ নিয়ে এ কে খন্দকার যা বলছেন- ‘১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে শুরু করে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সব প্রস্তুতি সত্ত্বেও কিছুমাত্র পদক্ষেপ নিলেন না যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সেই নেতৃত্ব যুদ্ধ পরিচালনা করবেন কীভাবে?(পৃষ্ঠা নং- ২২-২৩)

এই প্রশ্নটি বিষয়ে আরো জানতে নিশ্চয়ই আপনাকে বইটি পড়তে হবে।  একজন সামরিক ব্যক্তি তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভুমিকাকে  সামরিক বিশ্লেষণের দিক থেকে খেয়াল যা করেছেন তা-ই তিনি এখানে বলতে চেয়েছেন।  সামরিক একজন ব্যক্তি হিসেবে এ কে খন্দকার উত্তাল সেই মার্চেই জানতে পেরেছিলেন যে, পাকিস্তানীরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।  অথচ, এদিকে রাজনৈতিক নেতারা রাজনৈতিক আলোচনা ও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করলেও সামরিকভাবে পাকিস্তানীদের মোকাবেলা করার কোনো পদক্ষেপ নিতে তিনি দেখতে পাননি।   রাজনৈতিক বিষয়কে সামরিক দিক থেকে দেখতে গেলে তার অনেক কিছুই ’ভুল’ বলে মনেও হতে পারে যা এ কে খন্দকারসহ অনেক সামরিক ব্যক্তিত্বই ১৯৭১ নিয়ে বলে এসেছেন।  তবে রাজনৈতিক নেতা নিশ্চয়ই সার্বিক সকল কিছু েভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তবে আওয়ামীলীগের ‘প্রতিরোধকালীন প্রস্তুতি’ ছিল না এবং সাথে সাথে তাদের প্রতিরোধ সংগ্রামের সময়ে কী গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংগ্রাম পরিচালনা করা প্রয়োজন, ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন দেশতে তারা কীভাবে পুনর্গঠন করতে চান তার অনেক প্রাকপরিকল্পনা যে আওয়ামী নেতৃত্ব করেনি তা অনেকাংশে নিশ্চিতভাবেই বলে দেয়া যায়।

জিয়াউর রহমান নিজে কখনো যুদ্ধে নামেননি

এ কে খন্দকার বলছেন-

”জিয়াউর রহমান নিজে কখনো যুদ্ধে নামেননি, এমনকি ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে কখনো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যাননি- কামালপুর যুদ্ধের সময় তিনি ভারতে মাটিতেই নিরাপদ দুরত্বে অবস্থান করেছিলেন- এ কথা জিয়ার ব্রিগেডের অনেক ছেলেই সে সময় বলেছিল।  আসলে জিয়াউর রহমান বরাবরই ভারতের মাটিতে অবস্থান করেছেন।  এ কথাটা কিন্তু সত্য”(পৃষ্ঠা নং- ৮৮)

গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নামকরণ

মঈদুল হাসান বলছেন- “ এখানে আরো একটি বিষয় আছে, দেশের নাম কী হবে। রেহমান সোবহান বরাবরই একটা বামপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন। তিনি প্রস্তাব করেন, যখন দেশের স্বাধীনতার জন্য জনগণ বিপ্লবী ধারায় আন্দোলন শুরু করছে; তখন এটার নাম হওয়া উচিত গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ, অর্থাৎ  পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ। রেহমান সোবহান বোধহয় কখনো এটা দাবি করেননি,কিন্তু আমি বিষয়টি জানি”(পৃষ্ঠা নং- ২৫)

মায়েরা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

এস আর মীর্জা কথোপকথনে বলছেন-

”গেরিলা যোদ্ধাদের ব্যাপারে আমার তখনকার একটি পর্যবেক্ষণের কথা এখন বলতে চাই। তা হলো, মুক্তিযুদ্ধে যারা যোগ দিয়েছিল বেশির ভাগকেই তাদের মায়েরা পাঠিয়েছিলেন যুদ্ধ করার জন্য। যুদ্ধের একদম শেষের দিকে কর্নেল নূরুজ্জামান একদিন আমাকে বললেন, যে সময় পাকিস্তানীরা পিছু হটছে, সে সব জায়গা দখলে নিচ্ছে আমাদের মুুক্তিযোদ্ধারা।  এই সময় কর্নেল জামান একটি মুক্ত গ্রামে এক মোড়লের বাড়িতে যান। কর্নেল জামান তাঁকে জিজ্ঞস করলেন, মুক্তিযুদ্ধে তুমি কী করেছ? মোড়ল জাানালেন যে, তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক সাহায্য করেছেন। ইত্যাবসরে সেই মোড়ল কী কাজে বাড়ির ভেতর ঢুকলে তাঁর স্ত্রী কর্নেল জামানের কাছে এসে বললেন, ’স্যার, ওর একটা কথাও বিশ্বাস করবেন না। ও রাজাকার ছিল এবং পাক সেনাদের সবসময় সাহায্য করত। এ ঘটনা থেকে আমি বলব, আমাদের মায়েরা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”(পৃষ্ঠা নং- ৭৯-৮০)

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিশ্বশক্তি বা পরাশক্তির প্রভাবক্রিয়া
ভারত সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তির পরে বদলে যায় দৃশ্যপট। এ নিয়ে মঈদুল হাসান কথোপকথনে বলছেন- “ প্রথমদিকে গেরিলা বা মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা কয়েক হাজারের বেশি ছিল না।  দুই থেকে পাঁচ হাজার পর্যন্ত। কিন্তু ৯ আগস্ট ভারতসোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি সম্পাদনের পর ভারত যখন তার আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বিশেষ করে চীনের সম্ভাব্য সামরিক হামলা মোকবিলার বিষয়ে সুনিশ্চিত হয়, তখনই ভারত সিদ্ধান্ত নেয় যে, এরপর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপক হারে প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্রশস্ত্র দেওয়া যেতে পারে। বস্তুত  এই চুক্তি সম্পাদনের পর থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার করে মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা নেয় ভারত। “(পৃষ্ঠা নং- ৮৩)

মুজিব বাহিনী গঠনের কারণ 

এস আর মীর্জা সংক্ষিপ্তভাবে বলছেন- “নেতৃত্ব যাতে বামপন্থীদের হাতে যেতে না পারে সেজন্যই হয়তো মুজিব বাহিনীর সৃষ্টি”(পৃষ্ঠা নং- ১২১)

স্বাধীনতা পরবর্তী প্রসংগ

এস আর মীর্জা বলছেন- “ আরেকটি বিষয় বলব, পাকিস্তানীরা যে শাসনব্যবস্থা, যে কাঠামো, স্বাধীনতার পরও সেই কাঠামো, সেই প্রশাসন ব্যবস্থা রেখেই তারা কাজ শুরু করলেন। একটি স্বাধীন দেশের উপযোগী শাসনব্যবস্থা, যা মানুষের প্রত্যাশা ছিল, সেটি তারা করলেন না। “(পৃষ্ঠা নং- ১৩৭)

মুক্তিযোদ্ধাদের কাজে লাগানো নিয়েেএস আর  মীর্জা এ প্রসংগে বলছেন-” মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের বিরাট শক্তি ছিলেন। তাঁদের এই সরকার একদম ভুলে গেল। তাঁদের জন্য কিছু করা হলো না বা তাঁদের নিয়ে কিছু করা হলো না। তাঁদের বাড়ি চলে যেতে বলা হলো। অথচ উচিত ছিল সবার একটা তালিকা তৈরি করে মিলিশিয়া বাহিনী গড়ে তুলে তাঁদের দেশ গড়ার নানামুখী কাজে লাগানো। তা না করে নেতারা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন কে কোন ফ্যাক্টরি পাবেনম বাড়ি পাবেন তা নিয়ে। তাঁরা সমাজতন্ত্রও করবেন বলবেন,…”(পৃষ্ঠা নং- ১৩৭)

মানুষ এখন সত্য কথাগুলো জানতে চায়

মঈদুল হাসান বইটির শেষদিকে বলছেন- “মানুষ এখন মুক্তিযুদ্ধের সত্য কথাগুলো জানতে চায়। দলীয় রাজনীতির প্রচার মতবাদের অস্ত্র হিসেবে নয়, সত্য কথা, প্রকৃত ঘটনাটা, পক্ষপাতিত্বহীনভাবেই তাদের বলা উচিত, যাতে সমাজ ঠিক ও বেঠিক, ভালো ও মন্দ প্রশ্নে কতগুলো স্থির সিদ্ধান্তে আসতে পারে। তার মধ্য দিয়েই কিন্তু এ সমাজটাকে, বহুধারায় বিভক্ত সমাজকে ঐক্য করা যাবে।”(পৃষ্ঠা নং- ১৪৮)

বইটি প্রকাশিত হয়েছে প্রথমা প্রকাশন থেকে।

বইটি আপনারা সকলে পড়ে দেখবেন এই প্রত্যাশা রইল।

 

 

Advertisement