এই পোস্টটি ৩৩৪ বার পড়া হয়েছে


২৭টি আনারস চারা রোপন করে দিয়ে শুরু হলো উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করার কাজ!

মাত্র ২৭টি আনারস চারা! এক ব্যক্তির অনাদরে রাখা আনারস বাগান থেকে চারা তুলে নিলাম আমরা! তারপর সেগুলো একটি ঝলায় ভরে হাতে একটি তাগল/দা নিয়ে রওনা দিলাম। কিছুক্ষণ হেটে গিয়ে গঙ্গারাম নদীর ধারে আসলাম। সেখানে পাড়ে রাখা নৌকা দিয়ে নদী পার হলাম। নদীর পাশেই রামঅছড়া গ্রামের সীমানা শুরু।
 পাহাড়ি পথ বেয়ে গেলাম দিলদাজ্জে বাপ-এর বাড়িতে। সেখানে তার পরিবারসহ সবাই তখন ছিলো। তারা দুপুরের বিশ্রাম নিচ্ছিলো। তাদের বললাম- আমরা এসেছি আপনার বসতভিটার কাছে চারটি আনারস চারা লাগিয়ে দিতে। তাকে বললাম- আপনার বসতভিটার চারপাশে কেন এত ঝাড়? অনুরোধ করলাম কয়েকদিনের মধ্যে যেন তিনি তার ঝাড় পরিষ্কার করেন। তারপর ঝাড় পরিষ্কার করে চারটি মাত্র আনারস চারা লাগিয়ে দিলাম। তাদের হাতে একটি আনারস ফল ধরিয়ে দিলাম। বললাম এই আনারসটি খাবেন। এবং বললাম, ভবিষ্যতে যদি বেড়াতে আসি তবে যেন আনারস বা অন্য কোনো ফল আপনার কা্ছ থেকে খেতে পাই।
একদিন নিশ্চয় আনারস চারাগুলো বড় হবে, রসে টুম্বুর ফল ধরবে!
এরপর গেলাম শোভারানী বাপ-এর বাড়িতে। তাকে ডাকলাম। তিনি আসলেন। তাকে আমরা বললাম, আপনার বাড়িতে তো কয়েকদিন আগে বেড়াতে আসলাম! কিন্তু কোনো ফলই তো খাওয়াতে পারলেন না! এবার আপনার বসতভিটার পাশে ১৬টি আনারস চারা লাগিয়ে দিয়ে যাচ্ছি। ভালভাবে পরিচর্যা করবেন! এরপর আমরা জায়গা পরিষ্কার করে আনারস চারাগুলো লাগিয়ে দিলাম। তিনিও আমাদের সাথে থেকে তাগল ফাগারা ধরে সহযোগিতা করলেন। তাকে দুটো আনারস কাটতে বললাম। আমরা সবাই মিলে তা খেলাম।
এই সময় দেখা হলো শশাংক চাকমার সাথে। তার সাথেও উৎপাদনের গুরুত্ব, বসতভিটার চারপাশে খাবার জাতীয় ফল-পাওর লাগানোর কথা বললাম। তিনিও আমাদের সাথে শরীক হলেন।
এবার আমরা সাজেকের উজো বাজারে ফেরত আসার সময় উজ্জ্বল চাকমার বাড়িতে বসলাম। আমরা তার বসতভিটায় চারটি আনারস চারা লাগিয়ে দিলাম। তার বাড়ির পাশে তার আজু(দাদু)-র ঘর। উজ্জ্বলের হাতে তিনটি আনারস চারা ধরিয়ে দিয়ে বললাম, চারাগুলো যেন সে তার আজুর বসতভিটায় লাগিয়ে দিয়ে আসে।
 ফিরে আসলাম সাজেকের গঙ্গারাম উজো বাজারে।
সাজেকের সাধারণ জনগণ সহজ সরল। তেমনি অধিক সহজ সরল তাদের জীবন! দুবেলা দু’মুঠো খাবার পেটের জন্য জোগাড় করার পরে তারা আর তেমন যে চিন্তা ভাবনাই করে না! তাই উৎপাদন করে পরিশ্রম করে নিজের ভাগ্যের উন্নতি করার চিন্তাই যেন তারা করেন না! আর এই দুশ্চিন্তাহীন জীবন যাপনকেই আমরা বলি ‘আলজি’ অলস কুড়ে হয়ে থাকা!
কিন্তু তাদের শুধু উপদেশ নির্দেশ না দিয়ে তাদের সাথে থেকে তাদের সুখে দু:খে সহসাথী হয়ে তাদের জীবন যাপন বৈশিষ্ট্য বদলে দেয়ার চেষ্টা কি আমরা করতে পারি না!
সাজেকবাসী উৎপাদনে উৎসাহিত হয়ে নিজের জীবন পদ্ধতি নিজেরাই একসময় বদলাবে এই আশাই আমরা করি!
আমাদের কাজটি তেমন বড়ো মাপের নয়। তারপরও তো কাজ! 
আজকের চারা রোপন কাজে আমরা যারা একসাথে ছিলাম তারা হলো- জেনেল কার্বারী, বীররঞ্জন চাকমা, ইন্দ্র চাকমা, কল্পরঞ্জন চাকমা।

Advertisement