এই পোস্টটি ৩৫৫ বার পড়া হয়েছে


হিপোক্রেটদের ভীরে বাস করছি-বিবেকের কাঁটা গ্যাংগ্রিনে রূপ নিচ্ছে

হিপোক্রেটদের ভীরে বাস করছি-বিবেকের কাঁটা গ্যাংগ্রিনে রূপ নিচ্ছে-আমি বিবেক হারাতে চাই না।

May 11, 2013 at 9:39pm
কয়েকদিন হলো ব্লগে লেখালেখি থামিয়ে দিয়েছি। কী লিখবো? কী নিয়ে লিখবো? চারদিকে এখন এমন এক পরিস্থিতি যে, চিৎকার করেও লাভ হবে না বলেই মনে হচ্ছে। লোকজন সব কী যে হয়ে গেছে! মানুষের মধ্যে বিবেকে-মনুষ্যত্ববোধ যেন উবে যাবারই অবস্থা! হিতাহিত জ্ঞান যেন আমরা হারাতে বসেছি। যেন আমরা শুধু ‘সুরসুরি প্রবণ গ্রন্থীগুলো’ দিয়ে বেঁচে আছি!

কেন উপরের শিরোনামা দিলাম!

সবাইকে যেন আমার ভন্ড, আপাদমস্তক নষ্ট প্রাণী বলেই মনে হচ্ছে! এই নেতিকথা বা চিন্তা বেশী করায় অনেকেই রেগেও যেতে পারেন! তাদের প্রতি ক্ষমা চেয়ে বলছি, এটা আমার তাৎক্ষণিক এক চিন্তার প্রতিক্রিয়া মাত্র বলে মনে করবেন মাত্র। আমি কাউকে দুঃখ দেবার জন্য বা কাউকে হেয় করার জন্য এই কথা বলিনি।
এবার প্রসঙ্গে আসি-

হিপোক্রেসি-এক
কৈফিয়ত:এ ই বিষয়টি নিয়ে কথা বলা এখন দুঃসাহসিকতার কাজ বলেই মনে করছি। কিন্তু বিবেকের গ্যাংগ্রিন হওয়া থেকে আমাকে মুক্তি পেতেই হবে! আমাকে নিজে বিবেককে তাজা রাখতেই হবে!

বক্তব্য:কয়েকদিন আগে দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিএনএন-এ এক সাক্ষাতকার দিলেন। সেখানে প্রশ্নকর্তা বললেন, রানা আওয়ামীলীগের যুব সংগঠনের কর্মী। এই কথার জবাবে শেখ হাসিনা সঙ্গে সঙ্গেই বললেন যে, রানা আওয়ামীলীগের যুব সংগঠনের কেউ নন। বিষয়টি অনেকের কাছে খুবই সাদামাট বিষয়! অনেকের এই বিষয়টি
নিয়ে এত ভাববার কোনোই কারণ নেই বলেই মনে হতে পারে! কিন্তু সাদা কথায় বলি, একটি দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী, যিনি আমাদের সবার প্রতিনিধিত্ব করছেন, যার ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পাওয়া মানেই দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পাওয়া। সেই তিনিই এমন এক মিথ্যাচার করলেন, এবং তা এত জ্যান্ত এবং এত নির্জলা এবং এত নির্লজ্জ্ব মিথ্যাচার! পৃথিবীর মানুষ কি জেগে নেই বলে মনে হয়?! মানুষ কি জানে না, এই কথাটি কতোটা মিথ্যায় ভরা! মানুষ কি তাদের ব্রেন ফুটো করে দিয়েছে! তারা কি মাথামোটা হয়ে গিয়েছে!? তাজ্জব! তাজ্জব!

কিন্তু আমরা নির্বিকার! নির্লজ্জ্বতার এটা কি ধরণের প্রহসন!? এটা কিসের লক্ষণ?

আমি প্রধানমন্ত্রীকে আঘাত করছি? ইনসাল্ট করছি? না, তা নয়। আমি এর জবার চাই। দেশের মান মর্যাদার একজন রক্ষক যখন দেশের মান মর্যাদা রাখতে পারেন না তখন তাকে সমালোচনা করতেই হবে, আমাকে তাই প্রচন্ড ক্ষোভ-বিতৃঞ্চার সাথে এই প্রশ্নটি করতে হচ্ছে। হ্যাঁ, বিতৃঞ্চার সাথে। একজন প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে এমন মিথ্যাচার তাও আবার বিদেশী গণমাধ্যমে, লক্ষকোটি মানুষের সামনে, যারা বোবা নয় কানা বা কালা নয়, বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নয় বা অজ্ঞ-মূর্খ নয়, যারা জানে, এবং প্রধানমন্ত্রীর এই কথাটি সত্য নয় তাও জানে।

তিনি কি পারতেন না বিষয়টিকে অন্যভাবে উত্থাপন করতে! তিনি কি পারতেন না সাপও না মরে, লাঠিও না ভাঙে এমন উত্তর দিতে!?
অথবা তিনি কেন হঠাৎ দেশের এই অস্বস্তিকর মুহূর্তে এমন এক সাক্ষাতকার দিতে গেলেন? কেন?

এক বুদ্ধিজীবীর কথা স্মরণে আসছে। তিনি তার এক লেখায় বলেছিলেন, বাঙালি জ্ঞান-গরিমা সব আছে; যা নেই তা হলো ‘কান্ডজ্ঞান’। বিজ্ঞ সাজার, ইংরেজী জানেওয়ালা সাজার অনেক অনেক সময় তিনি পেতেন। কিন্তু তিনি এমন এক সময়ে এমন এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে সাক্ষাতকার দিলেন! মাথা কার হেঁট হয়? যে বোঝে তার। মাথা কার হেঁট হয়েছে? এই আমাদের মতো দুনিয়ার চীজ শিক্ষিত-মগজে সচেতন দাবিদার বান্দাদের। অন্য কেউ বা অন্য কোনো ব্যক্তি বা অন্য কোনো দায়িত্ববান মন্ত্রীর কাছ থেকে যা শুনতে মানানসই বলে মনে হয়, দেশের একজন টপ ব্যক্তির কাছ থেকে তা শোনা যে কত বেমানান! তা কেউ যদি বুঝতো! আমি লজ্জ্বিত! আমি দুঃখিত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এমন কথা বলার জন্য।
কিন্তু আমরা কেউই এই বিষয়ে জোর কথা বলিনি! আমরা কানে তুলো দিয়ে রেখেছি! আমরা এই বিষয়টিকে ঠূনকো বলে ভেবেছি! আমরা তা পাত্তাই দেইনি। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা করে আমরা রোষে পড়তে চাইনি! এটা হিপোক্রেসি নাম্বার এক এর উদাহরণ।

হিপোক্রেসী -দুই

হাজার মানুষ মারা গেল। বিবেক জাগলো! বিবেক কারে কয়! সরকারের কোন মন্ত্রী, কোন আমলা, কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তি বুকের পাটা দেখিয়ে বলতে পেরেছে! আরে এই মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের জন্য কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির মধ্যেই ‘বিবেকের দংশন’ দেখলাম না। বরং মাননীয় অর্থমন্ত্রী ভারত সফরে যাবার পূর্বে বলেন, এটা তেমন কিছু্ কোন ক্ষতিই নয়! হায়, হায়, হায়! সত্যিই সেলুকাস! কী বিচিত্র এই দেশ!
বিরোধীদলগুলো কত হাবিজাবি বিষয় নিয়ে ‘হরতাল’ জালাও পোড়াও দেয়, এই রানা প্লাজা ধস নিয়ে এরা কোনো কর্মসূচিই দিলো না! হায়! হায়! আমরা ‘জাতীয় দুর্যোগের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হরতাল প্রত্যাহারও করলাম! তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির মধ্যে তো ক্ষমতা-প্রতিপত্তির যোগ! তাই এই দাবি নিয়ে হরতাল দিলে ক্ষতি নেই!
হিপোক্রেসী আর কাকে বলে! আমরা চক্ষু মুদে ঘুমালাম! সাভারে গিয়ে মৃতদেহ টেনে, জীবন্মৃত বের করে বুক ফুলিয়ে রাখলাম!
বাম নামধারী আগামোটারা(দুঃখিত এত বেশি ঝাঁঝের কথা বলার জন্য) কথায় কথায় বিপ্লব-শ্রমিকশ্রেনীর জন্য জান-পরান ঢালে! এরা ২ মে হরতাল ডাকলো! তারপর ঘুমালো! শান্তি, ওম শান্তি! হিপোক্রেসী কাকে বলবে তাহলে! অন্য কোন সংজ্ঞা আছে!

হিপোক্রেসী- তিন

এদিকে হেফাজত-সুন্নত-জামাত আর সরকারের মোলাকাতে, যুদ্ধাপরাধী বিচারের তাকধিনাধিন জলতরঙ্গে কী যেন রিনিঝিনি বাজে!
ক’দিন আগে সিপিবি বা যাকে জাতীয়তাবাদী কম্যুনিস্ট বলা যেতে পারে। তাদের প্রধান ব্যক্তি কুলোপনা চক্করের টকিশের এক প্রোগ্রামে ‘ফতোয়া’ দিচ্ছেন- গণতন্ত্র তো এদের জন্য না, এরা(মানে হেফাজত-যুদ্ধাপরাধী-জামাত) তো গণতন্ত্রের সুবিধাভোগ করতে পাবেন না! কী তাজ্জব! কী তাজ্জব! এই ব্যক্তিই মুখে আঠা লাগিয়ে ক্ষণে ক্ষণে ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ’ ‘মার্কিন স্বার্থবাদ’ ইত্যাদি বাটখারায় মেপে মেপে জামাতীদের এই ‘ফ্যাসিস্ট’ টেররিস্ট পোষ্যকর্তারা জামাই আদর করে তার ফিরিস্তি দিচ্ছেন! আরা আমরা কী সুস্বাদু! কী বাহারী কথা! কী সাম্রাজ্যবাদবিদ্বষী কথা, কী দেশপ্রেম এই কথা বলে মাথা নেড়ে এই ‘কম্যুনিস্টা ফাসিস্ট’দের পক্ষে হাত মশকরা করছি! কী লজ্জ্বা! কী লজ্জ্বা!
এই কম্যুনিস্টরা ‘শ্রমিক শ্রেনীর’ একনায়কত্ব এনে দেবে! কী দেবে? এরা  তো মার্কিন ওই ‘গুয়ান্তামো বে’-ইরাকে যুদ্ধান্মদনাতে কত চিল্লাইয়া গলা ফাটে! অত্যাচার! কী অত্যাচার! মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এত অত্যাচারী! দেশে কি যুদ্ধ চলছে? দেশে কি একনায়কের রাজত্ব চলছে? ‘অল ম্যান আর ইক্যুয়েল, বাট সাম ম্যান আর মোর ইক্যুয়াল দেন দ্য আদারস’! এই হেফাজতীদের সুতরাং নিশ্চিহ্ন করে দাও-দুনিয়ার মজদূর! আমরা মোর ‘গনতন্ত্র্রভোগী দেন আদারস। কিসের গণতন্ত্র! এদের জন্য গণতন্ত্র নেই! এ যেন ফাসিস্টা বাতিস্তা! মুরদাবাদ! মুরদাবাদ! মুরদাবাদ! আমরা শুনলাম জিন্দাবাদ! জিন্দাবাদ! জিন্দাবাদ! প্রকাশ্যে এই ফ্যাসিস্ট বক্তব্য শুনলাম! আমলা মাথা নাড়লাম। বিপ্লব আসন্ন!
আমি বিবেকের গ্যাংগ্রিণ থেকে বাঁচতে চাই! আমি নীতি-নৈতিকতা-মানবিকতাকে হারাতে চাই না! কাউকে দুঃখ দিয়ে থাকলে দুঃখিত। এটা আমার মনের দিক থেকে সমালোচনা। জানি দেশ চালাতে অনেক কিছুই লাগে । চাণক্য নীতি! কনফুসীয়! সুন জু! ম্যাকিয়েভেলীয়! সবখানে যা আগে মুখ্য তা হচ্ছে ‘নীতি’। ধন্যবাদ

Advertisement