এই পোস্টটি ২৭৮ বার পড়া হয়েছে


১৫ মার্চের দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটির পদযাত্রায় হামলা ও তার পরবর্তি অবস্থা

গত ১৫ মার্চ দীঘিনালা ভূমিরক্ষা কমিটির আহ্বানে দীঘিনালা সদর থেকে বাবুছড়া পর্যন্ত পদযাত্রা বা লংমার্চের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাবুছড়ায় দুইটি গ্রামের মোট ২১ পরিবারকে উচ্ছেদ করে বিজিবি’র ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির দিন সকাল থেকে প্রশাসন গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়ে ও ভিতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে কর্মসূচি ব্যর্থ করে দিতে চেষ্টা করে। কিন্তু বহু বছর পরে দীঘিনালার জনতা গণতান্ত্রিক এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য যেন পথে পথে উন্মুখ ছিল! তাই যেখানেই পদযাত্রায় বাধা দেয়া হয়েছে সেখানেই তার পরবর্তী স্থান থেকে নতুন করে পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম দীঘিনালা সদরের মিইনী ব্রিজে পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের বাধা দেয়া হলে পদযাত্রায় অংশ নেয়া জনতা সেখানেই অবস্থান গ্রহণ করে। পরে উৎসাহী জনতা তার কিছুদূরে শান্তিপুর এলাকায় একত্রিত হয়ে নতুন করে পদযাত্রা শুরু করে। এরপর বাবছুড়া ও আদর্শ স্কুল এলাকায়ও জনগণ একত্রিত হয়ে পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নিতে চেষ্টা করে। এছাড়া দীঘিনালা সদর থেকে বাবুছড়া পর্যন্ত প্রায় ১৫/১৬ কিলোমিটারের মধ্যে যে গ্রাম রয়েছে সেই গ্রামের অনেকেই উৎসাহে সাথে পদযাত্রায় অংশ নিতে উন্মুখ হয়ে ছিলো।

মিইনী ব্রিজ এলাকা-বাবুছড়া ও আদর্শ স্কুল এলাকায় পদযাত্রায় অংশ নিতে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা যেখানে প্রশাসন বাধা দিয়েছে সেখানেই অবস্থান নিলেও শান্তিপুর থেকে শুরু হওয়া মুল অংশটি দ্রুতগতিতে প্রশাসনকে পাশ কাটিয়ে বাবুছড়ার উদ্দেশে হাঁটতে থাকে। এতে ২ হাজার থেকে ৩ হাজারের মতো জনতা স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।

এক পর্যায়ে প্রশাসন তথা পুলিশ-বিজিবি-আনসার ব্যাটালিয়ন ও সেনাবাহিনীর যৌথ টীম উক্ত গতিপ্রাপ্ত্ দ্রুত অগ্রসরমান দলটিকে বাধা দিতে মরীয়া হয়ে ওঠে। উক্ত হাজার জনতার  দলটি কার্বারী টীলা এলাকায় আসলে প্রশাসন তার পথরোধ করে। এবং এক পর্যায়ে তাতে লাঠিচার্জ করা হয়। একই সাথে নির্বিচারে ব্ল্যাংক ফায়ার তথা ব্রাশ ফায়ার করা হয়। অপরদিকে জনতাও বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল-কান্তা দিয়ে গুলতি মারতে শুরু করে। প্রায় অাধা ঘন্টা মতন এভাবে হামলা-পাল্টা প্রতিরোধ চলার পরে প্রশাসন উক্ত দলটিকে নতুন করে সমাবেশ করতে দিতে বাধ্য হয়। পরে প্রশাসন দলটিকে কিছদূরে উদল বাগান এলাকার মাধ্যমিক স্কুল মাঠে সমাবেশ করতে সুযোগ করে দেয়।

প্রশাসনের বাধা প্রদান স্বত্ত্বেও শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা কর্মসূচির ইতি টানার পর্যায়ে আসলেও কার্বারী টীলায় নির্বিচারে গুলি বর্ষণ ঘটনার কারণে এবং পাল্টা প্রতিরে্াধের কারণে পদযাত্রা কর্মসূচির আপাত শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি হলো না। পরে প্রশাসন বেশ কয়েকজনকে আটক ও ৫৬ জনের নাম নির্দিষ্ট করে প্রায় ৮০০ জনের নামে মামলা ঠুকে দেয়ায় দীঘিনালার পরিস্থিতি থমথমে হয়ে যায়। এবং এখনো অর্থাৎ ২৩ মার্চ পর্যন্ত দীঘিনালা ও তার আশেপাশের এলাকার জুম্ম জনগণ অনেকটা প্রশাসনের হয়রানী-জেল-জুলুমের ভয়ে তটস্থ দিন যাপন করছে।

দীঘিনালায় বর্তমানে কোনো প্রতিবাদ মিছিল সমাবেশ বা কোনো ধরণের কর্মসূচির আয়োজন করা যাচ্ছে না।

হামলা ধরপাকড়ও অব্যাহত রয়েছে। নানা জায়গা থেকে কয়েকজন আটক করা হয় অথবা আটকের চেষ্টা করা হয়।

এভাবে আর কতদিন চলবে তা প্রশাসনই জানে তবে এভাবে হামলা মামলা আটক ও তল্লাশী চালিয়ে দীঘিনালাবাসীকে আর কতদিন প্রশাসন তটস্থ রাখতে পারবে অর্থাৎ ভূমি রক্ষার লড়াই থিতিয়ে যাবে নাকি জোয়ার জলের মতো ফুঁসে উঠবে সেদিকেই বর্তমানে রাজনীতি সচেতন পার্বত্যবাসী তথা সংশ্লিষ্ট সকলে অধীর অপেক্ষা করে আছেন।

তবে যাই হোক না কেন দীঘিনালা ঘটনা আবার জানান দিলো যে, পার্বত্য জুম্ম জনতার উপর দীর্ঘ বঞ্চনা নিপীড়ন নির্যাতন অবহেলা উৎপীড়ন ক্ষমতার অসদ্ব্যবহার করে জ্বালাতন করা হলে এক পর্যায়ে সুযোগ  পেলেই পার্বত্যবাসী রুখে দাড়াবে তা যেভাবেই হোক না কেন। প্রয়োজনে বুলেট বুট লাঠিচার্জ লাথিচার্জও তারা উপেক্ষা করতে প্রস্তুত থাকবে, সেটা হয় দুএক ঘন্টার জন্য বা দু’এক দিনের জন্য অথবা আরও তার চেয়ে বেশি সময়ের জন্য!

Advertisement