এই পোস্টটি ৫০৬ বার পড়া হয়েছে


কাজের নেতা তাজউদ্দীন: জন্মদিনে তোমায় সশ্রদ্ধ সালাম

  • আজ ২৩ জুলাই, ২০১৩। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্বদানকারী তাজউদ্দীন আহমেদের আজ ৮৮ তম জন্মদিন। ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই গাজীপুর জেলার কাপাসিয়ার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ১০ ভাইবোনের মধ্যে ৪র্থ।

    ছাত্রজীবনে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপরে তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের নেতৃত্ব প্রদান করেন।

    তাঁর সারাজীবনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্ণনা করলে এক অর্থে বলা যায়, তিনি নামে নেতা ছিলেন না, ছিলেন কাজে নেতা।

    তার ৮৮তম জন্মদিনে আমি তাকে স্মরণ করছি সেই কাজে নেতা হিসেবে। যে সমাজ বা জাতি তার কৃতী বা কৃতি সন্তানদের স্মরণ করতে পারে না সেই সমাজ বা জাতি বা দেশের উন্নতি নেই বলেই আমি মনেকরি।

    ২০০৭ সালে তাকে স্মরণ করে ডেইলী স্টার পত্রিকায় আমি একটি চিঠি পাঠাই। সেই চিঠি ২৫ অক্টোবরে প্রকাশিত হয়। সেই চিঠিতে যা লেখা ছিলো তা নিচে তুলে ধরছি।-

    Tajuddin Ahmed was really a great leader. But this is very much deplorable that he did not have his rewards. July 23, his 82nd birth anniversary, passed silently. I read only one write-up on him written by Mr. Shahnoor Wahid under the title ‘Tajuddin Ahmed: The lonely warrior” which appeared on 24 July, 2007.

    I have read the article with passion and emotion. If we deeply study the 1971 liberation war, we would see how he (Tajuddin Ahmed) led the nation towards victory. Let’s honour and recognise him. Thanks to Mr. Shahnoor Wahid for his write-up.

    ওয়েবলিঙ্ক : ডেইলীস্টার

    তাজউদ্দীন আহমেদকে কাজের নেতা হিসেবে বিবেচনা করেই তার শত হাজার দুর্বলতা স্বত্ত্বেও আমি শ্রদ্ধাভরে তার স্মরণ করি। কিন্তু নির্মম পরিহাস যে এই কর্মকৃতী যোদ্ধাকে উপযুক্ত সম্মান দিয়ে স্মরণ করে না যেমন এই দেশের তথাকথিত মূলধারার ইতিহাসবেত্তারা। তেমনি তাকে স্মরণ করে না প্রগতিবাদী এবং বিপ্লবী আকাঙ্খীরা!

    তাজুদ্দীন আহমেদকে কেন সম্মান করা প্রয়োজন?

    লক্ষ্যের প্রতি অবিচল এক কর্মকৃতী যোদ্ধা

    তিনি বর্তমান বাংলাদেশের ইতিহিাসের এক দুর্যোগকালীন অবস্থার সময় নির্ভিক ও অকুতোভয় চিত্তে নিজের সর্বস্ব বিপন্ন করে বা বলি দিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ইতিহাসে লেখা রয়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধের সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তার পরিবারের সাথে পর্যন্ত সাক্ষাত না করার পণ করেছিলেন। এবং এই পণ তিনি পালন করেছিলেন সততার সাথে। বাকি অন্যরা এই পণ থেকে যখন সরে এসেছিলো তখন তিনি তা থেকে সরে আসেন নি। বীরের বা কর্মকৃতী যোদ্ধা তা তিনি শত্রুরও যদি হয়ে থাকেন তবে তাকে সম্মান করাই উপযুক্ত সাহসী বীরের ধর্ম।

    এবং তার অনেক প্রতিক্রিয়াশীল কিছুকে বাতিল না করেই আজ এই দিনে আমি মনে করি তাকে স্মরণ করা দরকার তাকে উপযুক্ত সম্মান দিয়ে।

 

কাজে নেতা ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ

শেখ মুজিব ছিলেন নামেমাত্র নেতা, কিন্তু তাজউদ্দীন আহমেদ ছিলেন কাজের মাধ্যমেই নেতা। ইতিহাসে শেখ মুজিবের নাম লেখা রয়েছে।কিন্তু তিনি নয়মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধের উত্থানপতনতরঙ্গের সাথে সরাসরি শরীক হননি। পাকিস্তান সরকারের হাতে তিনি বন্দী ছিলেন। অন্যদের সাথে সম্মুখে থেকে নানা ঘাতপ্রতিঘাত মোকাবেলা করেছিলেন তাজউদ্দীনই। এই কাজের নেতাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস লেখা যায় না।

এই কাজের নেতাকে বাদ দিয়ে যারা নামেমাত্র নেতাকে স্মরণ করে বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে বসে তাদের জানাই, বাস্তব কাজের মূল্যায়ন যদি তোমরা না করতে শেখো, তবে যে পরিণাম তোমাদের হবে তা হচ্ছে, ইতিহাসে ভঙ্গুর এক পাটাতনে দাড়িয়ে উত্তাল সাগর পাড়ি দেয়ার মতো! এবং আজ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমরা তাই-ই দেখছি।

শেখ মুজিব যখন পাকিস্তান থেকে ছাড়া পেয়ে বাংলাদেশে আসেন তিনি তখন সবার সম্মান পেয়েছেন। কিন্তু তিনি বাস্তব ইতিহাসের সাক্ষী না হওয়ায় তিনি জানতে পারেন নি কে তার শত্রু বা কে তার মিত্র! এ পর্যন্তই বলবো! তিনি ছিলেন ব্যর্থ এক প্রশাসক মাত্র। এবং তার কারনেই দেশ গঠনের এক সুবর্ণ সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। ইতিহাস হয়ে দাড়ায় ভঙ্গুর এক পাটাতনের মতো।

এবং বাস্তব ইতিহাসে এই পরিণতি দেখে এটাই সতর্কবার্তা “নামে নেতা নয় কাজে নেতা’র নেতৃত্বেই সমাজ রাষ্ট্র পরিচালিত হলেই তবে তার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায়! নামে নেতাকে এই দেশ মূল্যায়ন করেছে! কাজে নেতাকে তো মূল্যায়ন করেনি! কাজের নেতাকে বাদ দেয়া মানে, কাজকে বাদ দেয়া! কাজ ছাড়া, উদ্যম ছাড়া, প্রচেষ্টা ছাড়া, আত্মস্বার্থ ত্যাগ ছাড়া কিছু্ই অর্জন সম্ভব নয়! অন্তত দেশের স্বার্থ অর্জন তো নয়ই!

এই দেশে কাজের নেতার মূল্যায়ন নেই তো তাই কাজেরও মূল্য নেই , ঠিক দেশের স্বার্থের দিকে যেমন মূল্য নেই! সবাই প্রস্তরখন্ডে নাম লিখে, রাস্তায়, বিল্ডিঙে, সেতু, ভবনে ইত্যাদিতে নাম লেখায় ব্যস্ত থাকে। কাজের কাজে নামকাওয়াস্তে!

 

আজকে আমি এক প্রকৃত কর্মবীরকে সম্মান জানাচ্ছি। এবং তাকে সম্মান জানিয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। তার অন্য গুণ আমার আর জানার দরকার নেই! এমনকি দোষও খুঁজে দেখার প্রয়োজন মনে করছি না!

কাজের নেতা তাজউদ্দীন তোমায় সশ্রদ্ধ সালাম!

Advertisement