এই পোস্টটি ৫০৬ বার পড়া হয়েছে


জাদুর ফেসবুক ও আমার ভার্চুয়াল জীবন

ফেসবুক হলো টুইটার স্কাইপ মিগ৩৩ এর মতোই সামাজিক যোগাযোগের একটি জন প্রিয় সাইট। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই এটি টুইটার, স্কাইপ ইত্যাদি ছাড়িয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে পুরো বিশ্বে। আর ফেসবুকে কেমন জানি একটা জাদু আসে বলেই আমি জাদুর ফেসবুক ও বলি। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষের কম বা বেশি কিশোর কিশোরী যুবক যুবতী বৃদ্ধ অর্থাত্‍ প্রায় সব বয়সের মানুষদের নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করতে দেখা যায়।

ডিপ্লোমা প্রথম বর্ষের দিকে কলেজে নতুন গিয়ে বন্ধুদের কাছ থেকে প্রায়ই শুনতাম ফেসবুক নিয়ে মাতামাতি করতে, আর পত্র পত্রিকায় তো বলার বাইরে। এতই যে বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল যা অন্য কোন সামাজিক যোগাযোগের সাইট বোধ হয় পারে নি। ঠিক তেমনি এক পর্যায়ে ঠিক করি আমিও একটা ফেসবুক একাউন্ট খুলবো। ক্লাস নাইন থেকেই কম্পিউটারের সাথে কিছুটা পরিচয় ছিল বলেই সাহস নিয়ে আমিও বসে যাই নিজের পিসিতে ফেসবুক একাউন্ট খুলবো বলে। ঠিক খুলেও ফেললাম ফেসবুকে একটি একাউন্ট, আর শুরু করি সার্চ করে বন্ধুদের খুজে খুজে রিকোয়েস্ট পাঠানো। প্রথম দিকে ফেসবুকের ব্যবহার সম্বন্ধে ব্যবহারিক জ্ঞান না থাকায় খুবই কঠিন মনে হয়েছিলো, কিন্তু ক্রমে ব্যবহারের ফলে প্রায় আয়ত্ত করে ফেলি। বৃদ্ধি পেতে থাকে নতুন পরিচিত অপরিচিত দেশ বিদেশের অনেক বন্ধু। চ্যাটিং এর মাধ্যমে তাদের বেশ আপন ও হয়েছি। পেয়েছি ফেসবুকে অনেক কাছের বন্ধু। এমনি ভাবেই শুরু হয় ফেসবুকে নতুন এক ভার্চুয়াল জীবন। যা আমার কাছে তখনকার সময়ে বাস্তব জীবনের চেয়ে ভার্চুয়াল জীবনই বেশি মুল্যবান মনে হতো। সারাক্ষন কাজ লেখাপড়া ছেড়ে মজে থাকতাম ফেসবুকে, শেয়ার আড্ডার মধ্যেই কাটিয়ে দিতাম সারাটা দিন আর রাত ও। বাদ পড়েনি কোন খানেই রাস্তঘাট টয়লেট বিছানা ডাইনিং প্রায় সবখানেই পকেট থেকে মোবাইলটা বের করেই ফেসবুক লগিন করতাম, এমনকি বাদ পড়ে নি পরীক্ষার দিনগুলোতে ও। যার কারনে পরীক্ষায় কয়েকটা বিষয়ে ফেল মারার ও প্রচুর সম্ভাবনা ছিলো। কয়েকবার ধোকা খাওয়ার পর প্রতিজ্ঞা ও করেছিলাম যে আর ফেসবুক লগিন করব না। কিন্তু কি জানি কোন জাদু বা কিসের টানে তবুও ফেসবুক লগিন বাটনের শরনাপন্ন হতে হতো। এভাবে পার করে এসেছি প্রায় ৪ টি বছর। গত বছরের দিকে শুরু হয় ফেসবুকে নানা টানাপোড়ন, হারিয়ে গিয়েছিলো প্রায় অনেক বন্ধু এমনকি অনেকেই একটু ফেসবুকে টু মেরে গেলেও কিসের স্বার্থে জানি ভুলেই গিয়েছিলো যে আমি তাদের বন্ধু ছিলাম। আর অনেকেই কাজের ব্যস্তটায় বা ভান করে আমার খবর ও রাখছিলো না। মেসেজ দিয়েও কোন প্রতি উত্তর নেই।জানিনা তারা এ বন্ধুত্ততা কে কিভাবে নিয়েছিলো। বর্তমানে শুধু তারাই আছে যারা আমার অতি পরিচিত পুরোনো বন্ধু Nilay , prakash, basu, polo, dipak, sedam panza, barun bikash , tamber , promish , kamilo, pohoar সহ আরো অনেকেই। বর্তমানে ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে ফ্রেন্ড সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। পেয়েছি ভাই বোন দাদু মাসি চাচা সহ আরও অনেক বন্ধুকে। যাদের কারনেই হয়তো আমাকে আসতে হয় নিয়মিত ফেসবুকে। যাদের কে আমি মনে করি আমার বাস্তব জীবনের বন্ধুর মতো। এবার হইতো ব্যস্তটার কারনে নিয়মিত ফেসবুকে আসা হয় না. তবু শত ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে ভুলিনি এ ভার্চুয়াল জীবনকে একটি মুহূর্তে জন্য ও। সারাক্ষন চুটে আসত আমার মন ফেসবুকে ! জানিনা কোন জাদু মিশে আছে ফেসবুকে ? এটা কেমন ভার্চুয়াল জীবন? যে জীবন বাস্তব জীবনের চেয়ে মোটেও কম নয়।

Advertisement