এই পোস্টটি ১,৩৮৯ বার পড়া হয়েছে


বাবুই পাখিরে ডেকে বলিছে চড়াই এবং ‘আদিবাসী দিবস’

প্রথমে বলে রাখি এখানে প্রদত্ত মতামত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত

ইন্ডিজেনাস পিপলস ডে বা আদিবাসী দিবস পালন করা হয় ০৯ আগস্ট। এই দিবসটি সামনে আসলে  অনেকেই আলোচনায় মেতে ওঠেন। এবং বলতে গেলে কী এক না বুঝ ক্রেজ হঠাৎ চিত্তে তা তা ধিন তা ধা শুরু করে।

এ বিষয়ে আমার তেমন বলার কিছু নেই বলে আমি সবসময় মনে করেছি। যেদিন থেকে এ বিষয়ে আলোচনা বিতর্ক শুরু করা হয়েছে সেদিন থেকে বলে আসছি এবং হয়তো বলতে হবে যে, সাধ পূরণ হতে পারে একমাত্র সাধ্য থাকলেই।

এখানে একটি ছড়া/কবিতার চরণ, যা আমরা ছোটোকালে পড়েছি, তার উদ্ধৃতি দিচ্ছি। তবে লাইন ঠিক নাও থাকতে পারে। অনেকদিন পরে তো। তাই ভুল হবার সম্ভাবনা একটু বেশি। আর ধারেকাছে কোনো বই নেই যে কবিতাটি খুঁজে হুবহু লিখে দেবো!

কবিতাটি হচ্ছে-

বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই

কুড়েঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই

আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে

তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে।

কবিতার পরের অংশে বাবুই  পাখি চড়ুইপাখির প্রশ্নের জবাব দেন। কবিতার লাইন ঠিক মনে করতে না পারায় আর উদ্ধৃতি দিতে পারছি না।

তবে বাবুই পাখি যা বলে তা হচ্ছে, চড়ুই পাখির বাসা অট্টালিকার হলেও তা পরের। কিন্তু বাবুই পাখির ঘর বা বাসা তার নিজের। তার নিজের তৈরী।

এই কবিতার সারার্থ হচ্ছে, স্বাবলম্বী হওয়া। নিজের ওপর দাঁড়ানো।

এত বছরের রাজনৈতিক জীবনে আমি সবসময় এ বিষয়ে বিতর্কের সময় যে কথা বলে এসেছি তা হচ্ছে, এই স্বাবলম্বী হবার কথা।

এই কবিতাটির মর্মার্থ বুঝতে পারলে এবং জাতিগত অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে তা অনুধাবন করতে পারলেই আমার মনে হয় এই ‘আদিবাসী দিবস’ কে পালন করে বা না করে বা পালন করা উচিত বা উচিত নয়, এই বিতর্ক সমাধা হয়ে যায়।

আমরা যা-ই করি না কেন, যদি নিজের যোগ্যতার উপর ভর করে দাঁড়াতে না পারি বা না জানি তবে এটা বলে দেয়া যায় যে, কারো ‘বুদ্ধি’ ধরে আমরা অধিকারের কূল পেরোতে পারবো না।

চাঙমা দাঘঅ কধায় বলা হয়- “আমনত্তুন  ন থ্যালে দুনিয়া আন্ধার” অর্থাৎ, নিজের না থাকলে দুনিয়ায় অন্ধকার দেখার মতো অবস্থা।

” আমনঅ বুদ্ধি সনা, পরঅ বুদ্ধি রাঙ/লাঙ, আরাল্যা পার‌াল্যা বুদ্ধি গাজঅ মাধাত তাঙ” অর্থাৎ, নিজের বুদ্ধি বা জ্ঞান বা বিবেচনা হচ্ছে সোনার মতো দামি, অন্যের বুদ্ধি বা বিবেচনা বা জ্ঞান হচ্ছে এই আছে এই নেই বা তেমন মূল্যবান নয় বা নিজের নয়, যার তার বা দূর কারোর জ্ঞান বিবেচনা বা বু্দ্ধি গাছের আগায় টাঙিয়ে রাখতে হয় বা এই বুদ্ধি শুনে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। “

নিপীড়িত কোনো ব্যক্তি বা সমাজ বা জাতি অধিকার পেয়েছে তার নিজের শক্তির উপর ভর করে। কারো দয়ায় সে তা পায়নি। যদি বা কারো দয়ায় সে পেয়েও থাকে তবে তা যেন না পাবারই মতো! সবসময় থাকতে হবে অন্যের দয়ার উপর নির্ভর করে!

অনেকে পূর্ব তিমোরের কথা বলে থাকেন। অনেকে বলে থাকেন এই দেশটি বোধকরি স্বাধীনতা পেলো একমাত্র খ্রিস্টান হবার কারণে!

তাদের জন্যই বলি, এই পূর্ব তিমোর স্বাধীনতা পেতে ৮ লক্ষ জনগনের ২ লক্ষকে প্রাণ দিতে হয়েছিল। এবং তারা শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলো না । সক্রিয় ছিলো নিজের মাটিতেও। তিমোরীজরা স্বাধীনতা পেয়েছিলো তাদের সুসমন্বিত কার্যক্রমের জন্য। আন্দোলনও যেন এক অর্কেষ্ট্রার মতো! এক সুললিত গান বা নাচের মতো! সুর লয় তাল বা বাদ্য বাজনা ও স্বরের সমন্বয় ঘটলেই তবে সৃষ্টি হয় সুললিত সুরের, বীণা ঝংকারের!

তামিল আন্দোলন বিশ্বে নানা জায়গায খুবই শক্তিশালী। বলা হয়ে থাকে তামিল ডায়াসপেরা বা বিদেশে অবস্থানরত তামিল জাতির জনগণ নানা জায়গায় শ্রীলংকা দেশের কূটনীতকদের টেক্কা দেয়ার ক্ষমতা রাখার মতো প্রভাবশালী। কিন্তু এই তামিল আন্দোলন একমাত্র নিজের জনগণের শক্তির উপর ভর না করতে পারার ফলেই তার আজ এই পরিণতি! অস্ত্রশক্তি এক অর্থে কিছুই না! যদি জনতার শক্তিনা থাকে! তামিলদের আন্দোলন ছিলো চাঙমা ভাষায় যেন “দেরি লাম্বা, দেরি বাদির মতো”! তার একদিকে গানের স্বর চড়া, কিন্তু বাজনার ঢঙে আঁকাড়া!

যা্ই হোক!

কেউ আদিবাসী দিবস বা ইন্ডিজেনাস ডে পালন করুক বা না করুক তাতে কিছুই যাই আসবে না! ওই আন্তর্জাতিক আইন শুধু কাগজই থাকবে যদি তাতে যোগ না হয় এই জুম্ম জনগণের শক্তি , সাহস ,ঐক্য বা একতা, উদ্যম. আত্মোৎসর্গ , ধনূর্ভাঙ্গা পণ!

একমাত্র লড়াই করেই আমরা অধিকার আদায় করতে সমর্থ হবো। বাকি যা থাকবো তা হচ্ছে অনুঘটকের মতো! সেই অনুঘটকেরও  সদ্ব্যবহার করা যেতে পারে  একমাত্র আন্তশক্তির উদ্বোধনের মাধ্যমে!

সুতরাং, ইন্ডিজেনাস পিপলস ডে বা আদিবাসী দিবস পালন করা বা না করা নয়। বরং প্রস্তুত হই অধিকার আদায়ের লক্ষে!

কেউ আমাদের জন্য বিল্ডিঙ বানিয়ে দেবে তার চিন্তা না করে যা আছে তাই নিয়ে লড়াই করে এক ছোটো পেক বাসা করে নিতে পারলেও আমরা ভালোমতেই থাকবো!

[বিদ্র: আমার এই মত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত]

 

 

Advertisement