এই পোস্টটি ৩১২ বার পড়া হয়েছে


খাগড়াছড়ির কলেজের ছাত্রছাত্রীরা সাজেকের উজো বাজার ঘুরে আসলো

 

তারিখ: ৩১ আগস্ট, ২০১৪

খাগড়াছড়ি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা সাজেকের উজো বাজার ঘুরে আসলো গত ৩০ আগস্ট। পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রশাসন-সেটলার-নিরাপত্তা বাহিনীকর্তৃক ভুমি বেদখল বিষয়ে সচেতন করতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে এই সফর কর্মসূচির আয়োজন করা হয় বলে জানতে পারি।

তিনটি গাড়িতে করে কলেজের প্রায় ১৩৪ জনের মতো ছাত্রছাত্রী উজো বাজারে আসে। তারা পৌছলে পিসিপি ও যুবফোরামের সাজেক থানা শাখার কর্মীরা তাদের স্বাগত জানায়। এরপর অফিসে তাদের বসানো হয়।

এ সময় তাদেরকে উজো বাজারের আশেপাশের এলাকা কীভাবে রক্ষা করা হয়, সাজেকবাসীকে এই জায়গা রক্ষা করতে কী পরিমাণ রক্ত-ঘাম-শ্রম-সংগ্রাম করতে হয়েছে এ বিষয়ে বলা হয়।

এছাড়া এখনো বুদ্ধমূর্তি নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়ে কীভাবে সাজেকেরে উজো বাজার এলাকাকে প্রশাসন নিজের দখলে নিতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে এ বিষয়ে তাদের ধারণা দেয়া হয়।

রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নিবিড় সংগ্রাম ব্যতীত এবং ছাত্রযুব সমাজের সজাগ-সক্রিয় অংশগ্রহণ ব্যতীত জাতিসত্তার অধিকার-ভুমি বেদখল রোধ যে সম্ভব না এ বিষয়ে বলা হয়।

এছাড়া  ‍শুধুমাত্র লেখাপড়া ও আড্ডা, হাসিঠাট্টা, মোবাইলে গেম খেলা, দিনরাত গালগপ্পে মশগুল না থেকে শ্রমসাধ্য কাজও মাঝে মাঝে করা প্রয়োজন ইত্যাদি কথাও তাদের বলা হয়। তাদের বলা হয়, পাশের ভারতের রাজ্য মিজোরামে ছাত্রযুবকরা সপ্তাহের একদিন নিজেদের গ্রাম পরিষ্কার করে, তারা চার্চে গিয়ে শুধু ধর্মচর্চা করে না। বরং, কীভাবে একজন ছাত্র-যুবক অরো বেশি সচেতন হতে পারে, পড়ালেখায় মনোযোগী হবে, তার কী দায়িত্ব কর্তব্য এ বিষয়ে সেখানে তারা শিখতে পারে। এবং যারা সেখানে ছাত্রযুবকদের লেচকার দেয় তারা সবকিছু জেনেশুনে এসব লেকচার দেয়।

তাদের বলা হয়েছিল, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও গণতান্ত্রিক যুবফোরামের কর্মীরা শুধু মিছিল মিটিঙ করে না। তারা কয়েকদিন আগে ভাঙা রাস্তায় ইট বিছিয়ে রাস্তা্ মেরামত করেছে। তারা পাহাড়ের জঙলা-ঝাড় সাফ করেছে। তবে তাদের আরো বলা হয়নি যে, পিসিপি ও যুবফোরাম কর্মীরা আনারস চারা লাগিয়ে দিয়েছে। তারা একটি বাশ বাগানও করার চেষ্টা করছে। এবং তাদের আরো বলা হয়েছে পিসিপি ও যুবফোরাম কর্মীরা আগামীতেও শ্রমসাধ্য কাজ করবে ।

তাদেরকে বলা হয়েছিল, অধিকার আদায় করতে হলে শুধু অধিকার চাই, অধিকার চাই এই দাবি জানালে হবে না। বরং, অধিকার আদায়ের যোগ্যতা, শক্তিও থাকতে হবে। রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিকসহ সকল দিক থেকে আমরা সংহত-সুদৃঢ হতে না পারলে আমরা অধিকার পাবো না। কেউ আমাদের এমনিতেই অধিকার দেবে না। আধিকার আদায় করতে হয়। অধিকার আদায়ের যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।

ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক চেতনার মান উন্নত করার দিক বিষয়েও তাদের সাথে কথা বলা হয়।

তাদের বলা হয়, ফেসবুকে যারা ‘আই হেট পলিটিক্স’ লেখে তাদের তীব্রভাবে সমালোচনা করা প্রয়োজন। কারণ, আমাদের মতো নিপীড়িত নির্যাতিত জাতির রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক সচেতনতা অর্জন ব্যতীত সবকিছুই মূল্যহীন!

আশাকরি, আমাদের ভবিষ্যত যুবসমাজ সমাজ জাতিকে ভালবেসে সমাজ জাতি রক্ষার সংগ্রামে সদাসর্বদা জাগ্রত থাকবে।

Advertisement